নিজস্ব সংবাদদাতা , নদিয়া : নদিয়া শান্তিপুর তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে অ্যাসিড হামলা এবং খুনের হুমকির অভিযোগ।কসবার ল’ কলেজ নিয়ে উত্তপ্ত যখন গোটা রাজ্য। ল’ কলেজের গণধর্ষণের কান্ড ঘটতে না ঘটতে এবারে নিজের স্ত্রীর ওপর নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠল শান্তিপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে।
নদিয়ার শান্তিপুরের এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও লুকিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় স্ত্রীকেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল এবার শান্তিপুরের ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল নেতার দ্বিতীয় স্ত্রী।বিবাহিত এবং দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও লুকিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে বলে দাবি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর। এদিকে পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে শারীরিক নিগ্রহ থেকে শুরু করে মুখে অ্যাসিড ছোড়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয় পরিকল্পিতভাবে চলন্ত ট্রাকের নিচে চাপা দিয়ে খুনের হুমকি সহ একাধিক অভিযোগে এবার কাঠগড়ায় নদিয়ার শান্তিপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে।দ্বিতীয় স্ত্রীর অভিযোগ, ২০২৩ সালের ২৩ মে নিজের প্রথম বিবাহিত সম্পর্ক লুকিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন ওই তৃণমূল নেতা। পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার পর ক্রমশ দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। শুরু হয় দুজনের মধ্যে অশান্তি।এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় ওই তৃণমূলের নেতা সুব্রত সরকার এবং তার পরিবার তাঁকে হুমকি দিতে শুরু করে। কখনও অ্যাসিড হামলা কখনও আবার খুনের হুমকি দিতেন তৃণমূল নেতা , এমনটাই অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার এবং হুমকি বাড়তে থাকে।
অন্যদিকে, ঘটনা প্রসঙ্গে শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান,সুব্রত আমাদের দলের একনিষ্ঠ নেতৃত্ব ঠিকই, তবে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় । তার ব্যক্তিগত বিষয়ের সাথে দলের কোন সম্পর্ক নেই। তাই ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনীতির মধ্যে আনা ঠিক না।
‘যদিও এই বিষয়ে শান্তিপুরের বিজেপি নেতা চঞ্চল চক্রবর্তী জানান,এটাই তৃণমূলের আসল রূপ এবং কালচার। গোটা রাজ্যের মানুষ দেখছে কসবায় তৃণমূলের এক নেতা ধর্ষণে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। শান্তিপুরেও সেই তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অর্থাৎ তৃণমূল নেতা নারী নির্যাতনে ঘটনায় জড়িত। আমরা চাই পুলিশ ঠিক তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
