কী বার্তা দিচ্ছে রাজ্যের দুই উপনির্বাচন
দরজায় কড়া নাড়ছে রাজ্যের দুটো উপনির্বাচন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর। দুটি আসনের ফলাফল আপাতদৃষ্টিতে রাজ্য রাজনীতিতে অর্থবহ প্রভাব ফেলছে না। তবু দুটি আসনে মর্যাদার লড়াই কাজ করছে। বিজেপি চাইবে এই দুই আসনের ফলালফল কোনো ভাবে তাদের কাছে যাতে খোঁচা না হয়ে দাঁড়ায়। নন্দীগ্রাম নিয়ে তারা পূর্ণ আশাবাদী হলেও, রেজিনগর যেহেতু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত তাই এই কেন্দ্রটি নিয়ে একটা নিশ্চিয়তা যে কাজ করছে তা বোঝা যাচ্ছে। সেকারণে সরেজমিনে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ৭০-৩০ তত্ত্ব সামনে এনেছেন। হিন্ধুত্ব নয়, রাষ্ট্রবাদের আওয়াজ তুলেছেন। হুমায়ুনের আম জনতা পার্টিও তাদের পক্ষে ফলাফল টিকিয়ে রাখতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়বে। এতো গেল রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সহজ সরল সমীকরণ। কিন্তু এর মধ্যে যে সমীকরণটি ক্রমেই প্রকট হচ্ছে তা হল- জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিরোধী জোট। অর্থৎ ‘ইন্ডিয়া’-র একটা ল্যাব-টেস্টের সুযোগ। ওয়ার্ম-আপও বলা যায়। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। রেজিনগরে মমতা তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম প্রার্থী দিলেও ইতিমধ্যে অন্তত কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূলের প্রচারে সম-মনোভাবাপন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। উভয় তরফে বলা হচ্ছে, ভোট যার যার, বুথ সবার। অর্থৎ কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূল বলছে, যাকে ইচ্ছে ভোট দিন কিন্তু সবায় যাতে ভোট দিতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এমনিতে বঙ্গ রাজনীতিতে আমরা আগেও দেখেছি আঞ্চলিক ভোটের ক্ষেত্রে তলায় তলায় এলাকাভিত্তিক রফা হয়ে থাকে। সেখানে দলগত অবস্থানের চেয়ে স্থানীয় পরিচিতি, ব্যক্তিগত করিশমা, জনদরদী চরিত্র এসব ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে জাতীয় রাজনীতির নিরিখে মিত্রতা যদি স্থানীয় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় তাহলে তার একটা প্রভাব দেখা যেতে পারে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে এমন একটা সম্ভাবনা কী উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে না ?