ওঙ্কার ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়া X-এ উঠে এল ২৪ বছরের রাজনৈতিক সাফল্যের উজ্জ্বলতম স্মৃতি ! মঙ্গলবার সকালে নিজের পোস্টে স্মরন করিয়ে দিলেন ২০০১ সালের সেই দিনটির কথা, যেদিন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পোস্ট করলেন সেই ছবি। “অগণিত আশীর্বাদ” এই শব্দবন্ধে তুলে ধরলেন তাঁর উচ্ছ্বাস। একই সঙ্গে প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর তৃতীয় পর্বের শপথ গ্রহণের ছবইও। অর্থৎ একই অ্যালবামে তিনি তুলে ধরলেন তাঁর শীর্ষ প্রশাসকের সময়কাল।
গুজরাত থেকে দিল্লি, এক বর্ণময় জীবনের সোয়া শতাব্দীতে এসে দাঁড়ানে মোদী। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম শপথ নেন তিনি। সেই দিনটির কথা স্মরণ করে মোদী লিখেছেন, ২০০১ সালের এই দিনে, আমি প্রথমবারের মতো গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিই। আমার সহ-নাগরিকদের ক্রমাগত আশীর্বাদের জন্য ধন্যবাদ। আমি সরকার প্রধান হিসেবে আমার ২৫তম বছরে পা রাখছি। ভারতের জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। এই সমস্ত বছর ধরে, আমাদের জনগণের জীবন উন্নত করার এবং এই মহান জাতির অগ্রগতিতে অবদান রাখার জন্য আমার নিরন্তর প্রচেষ্টা ছিল, যা আমাদের সকলকে লালন-পালন করেছে।

২০০১ সালে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত গুজরাতের হাল ধরেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে রাজ্যে তখন অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি। সেই সময় গুজরাত জুড়ে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল তখনই তাঁকে হাল ধরার দায়িত্ব দেয় বিজেপি। তিনি লিখেছেন, “অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে আমার দল আমাকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই বছর রাজ্যটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে দুর্দশাগ্রস্ত। তার আগের বছরগুলিতে সুপার সাইক্লোন, ধারাবাহিক খরা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। এই চ্যালেঞ্জগুলি জনগণের সেবা করার এবং নতুন প্রাণশক্তি এবং আশার সঙ্গে গুজরাত পুনর্গঠনের সংকল্প নিতে শক্তি দিয়েছিল।”
সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যকে ঘুরে দাঁড় করানোই ছিল সেদিন মোদীর কাছে প্রধান লক্ষ্য। তিনি পেরেছিলেন। গুজরাতকে নিয়ে গিয়েছিলেন উন্নয়নের পথে। গোটা দেশের সামনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘গুজরাট লাইন’। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি রাজ্যের বন্যা ও খরার মোকাবিলার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা চালু করেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রীকালে গুজরাতে তৈরি হয় ক্লাইমেট চেঞ্জ দফতর। যা ছিল ভারতের প্রথম রাজ্য-স্তরের জলবায়ু দপ্তর। যা ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে তুলে ধরতে সাহায্য করেছিল।
এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নরেন্দ্র মোদীর। তাঁর পরিবার ছিল ‘অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি’-র। শৈশবে খুব কাছ থেকে দেখেছেন দারিদ্রতাকে। জেনেছেন পরিশ্রমের মূল্য এবং সাধারণ মানুষের অনটন। এরমধ্যেই গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট হন। এদিন সকালে তাঁর x-এর পোস্টে উঠে এসেছে সেইসব দিনের কথা। তিনি লিখেছেন, “যখন আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিই, তখন আমার মনে আছে আমার মা আমাকে বলেছিলেন – তোমার কাজ সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারণা নেই কিন্তু আমি কেবল দুটি জিনিস চাই। প্রথমত, তুমি সবসময় দরিদ্রদের জন্য কাজ করবে এবং দ্বিতীয়ত, তুমি কখনও ঘুষ নেবে না। আমি জনগণকে আরও বলেছিলাম যে আমি যা কিছু করব তা সর্বোত্তম উদ্দেশ্য নিয়ে করব এবং সারির একেবারে শেষ ব্যক্তির সেবা করার দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা অনুপ্রাণিত হব।”
২০০১ থেকে ২০১৪, গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা তৈরি করেন মোদী। সেই কাজ্যের পুরস্কারও পান। দল তাঁকে নিয়ে আসে দেশের শীর্ষ পদে। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার পড়ে তাঁর উপর।

এরপর ২০১৯ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

২০২৫ থেকে চলছে তৃতীবারের জন্য তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্ব।

তিনি লিখেছেন, এই ২৫ বছর অনেক অভিজ্ঞতায় ভরা। একসঙ্গে আমরা অসাধারণ অগ্রগতি লাভ করেছি। আমার এখনও মনে আছে, যখন আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন মনে করা হত যে গুজরাট আর কখনও মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়াতে পারবে না। কৃষক সহ সাধারণ নাগরিকরা বিদ্যুৎ ও জলের অভাব নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিল। কৃষিক্ষেত্রে মন্দাভাব ছিল এবং শিল্পের বিকাশ থমকে দাঁড়িয়েছিল। সেখান থেকে আমরা সকলেই সম্মিলিতভাবে কাজ করে গুজরাতকে সুশাসনের একটি শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করেছি। খরাপ্রবণ রাজ্য গুজরাট কৃষিক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্য সংস্কৃতি শক্তিশালী শিল্প ও উৎপাদন ক্ষমতায় প্রসারিত হয়েছে। নিয়মিত কারফিউ অতীতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক ও পরিকাঠামোর উন্নতি হয়েছে। এই ফলাফল অর্জনের জন্য জনগণের সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুবই আনন্দ পেয়েছি।”

তিনি আরও লিখেছেন, “২০১৩ সালে আমাকে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই সময়ে দেশে আস্থা ও শাসনব্যবস্থার সংকটের মুখে পড়েছিল। তৎকালীন ইউপিএ সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং নীতিগত পক্ষাঘাতের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল। ভারতকে বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি দুর্বল লিঙ্ক হিসেবে দেখা হত। কিন্তু, ভারতের জনগণের প্রজ্ঞা আমাদের জোটকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। গত ১১ বছর ধরে আমরা জনগনের সঙ্গে কাজ করেছি এবং অনেক রূপান্তর অর্জন করেছি। আমাদের যুগান্তকারী প্রচেষ্টা সমগ্র ভারত জুড়ে মানুষকে, বিশেষ করে আমাদের নারী শক্তি, যুব শক্তি এবং পরিশ্রমী অন্নদাতাদের ক্ষমতায়িত করেছে। ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারতকে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির মধ্যে একটি উজ্জ্বল স্থান হিসেবে দেখা হয়। আমরা বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির আবাসস্থল। আমাদের কৃষকরা উদ্ভাবন করছেন এবং আমাদের জাতিকে স্বাবলম্বী করে তুলছেন তা নিশ্চিত করছেন। আমরা ব্যাপক সংস্কার গ্রহণ করেছি এবং জনসাধারণের আবেগ হল ভারতকে সকল ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করে তোলা, যা ‘গর্ব সে কহো, ইয়ে স্বদেশী হ্যায়’ এর স্পষ্ট আহ্বানে প্রতিফলিত হয়।”
