ওঙ্কার ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) আসন্ন বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দিতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের তরফে প্রকাশিত বক্তাদের প্রাথমিক তালিকায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে আগামী মাসেই তিনি মার্কিন সফরে যাবেন। একই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান শুল্ক বিরোধের প্রেক্ষিতে তাঁদের সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল বেড়েছে।
ইউএনজিএ-র ৮০তম অধিবেশন শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর, আর উচ্চপর্যায়ের সাধারণ আলোচনা চলবে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রচলিত নিয়মে প্রথম বক্তা থাকবেন ব্রাজিল, এরপর আমেরিকা। ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে বক্তব্য রাখবেন ভারতের সরকারের প্রধান, একই দিনে বক্তব্য দেবেন ইজরায়েল, চিন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরাও।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে ২০২৫ সালের মধ্যে বহু-খাতভিত্তিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম ধাপ সম্পন্নের পরিকল্পনা ঘোষণা হয়। তবে এর মাঝেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়ান তেল কেনার জন্য নির্ধারিত এবং যা ২৭ অগস্ট থেকে কার্যকর হবে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একে “অন্যায্য ও অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্পের শুল্ক আদেশ ঘোষণার সময়েই জানা যায়, ২৫ অগস্ট থেকে মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতে এসে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির ষষ্ঠ দফার আলোচনায় যোগ দেবে। দুই দেশই নভেম্বরের মধ্যে চুক্তির প্রথম ধাপ সম্পন্নে আগ্রহী।
জাতিসংঘের বক্তাদের তালিকা এখনও প্রাথমিক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে এতে পরিবর্তন হতে পারে। প্রতিবছরের মতো এবারও সেপ্টেম্বরেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে বিশ্বের ব্যস্ততম কূটনৈতিক মরসুম শুরু হবে। তবে এবারের অধিবেশন ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ ও ইউক্রেন সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদের ছয় মাসে তিনি আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, ইসরায়েল-ইরান, রুয়ান্ডা-কঙ্গো, মিশর-ইথিওপিয়া এবং সার্বিয়া-কসোভোর মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্বও বারবার নিজের বলে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
