বিপ্লব দাশ : কার্যত ২৬শে-র দামামা বাজিয়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘বেলাগাম দুর্নীতির’ অভিযোগ তুলে মোদী যে দমদম মঞ্চে সরব হবেন, তার আভাস ছিলোই। কিন্তু ৪০ মিনিটের ভাষণের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে যে মমতা সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে সোচ্চার হবেন তা বোধ হয় বঙ্গ বিজেপির নেতারাও কল্পনা করেননি। দুর্নীতি আর অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তৃণমূলকে তিনি যেভাবে ‘দমদম দাওয়াই’ দিলেন, একই সঙ্গে শান দিলেন বাঙালি ‘অস্মিতা’তেও তাতে আশাতীত উজ্জীবিত বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু তা ভোট ময়দানে কতটা প্রতিফলিত হবে তা নিয়ে এখনই বলার সময় আসেনি।
তবে মোদী যে দলের অপবাদ মাথায় নিয়ে বাংলাশুদ্ধ হতে চাইছেন তা অস্পষ্ট থাকছে না। সে জন্যই কি বাংলার ভোটযুদ্ধের আগে বাংলা ভাষাকেই প্রধান অস্ত্র করতে চাইছেন ? বিজেপি সম্পর্কে তৃণমূলের বাংলা বিদ্বেষী প্রচারের মোকাবিলায় তিনি চাইছেন বাঙালি অস্মিতাকেই প্রধান অস্ত্র করতে। অন্তত দমদমের মঞ্চে তেমনিই মনে হল মোদীকে। পরপর দুবারের বঙ্গ সফরে তাই জয় “শ্রী রামের জায়গায়” ঠাঁই পেয়েছে দক্ষিণেশ্বর কালী, কালীঘাট, করুণাময়ী…। দুর্গাপুরের সভায়ও তিনি আওয়াজ তুলেছিলেন “জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা”। শুধু তাই নয়, দমদমের মঞ্চে দাঁড়িয়ে একাধিকবার বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাভাবিক ভাবেই বাংলার রাজনীতিতে উঠে এসেছে মোদীর ভোট কৌশল। তিনি যে এদিন নিজের ভাষণে বাংলা ভাষার আবেগে ভর করে ২৬শের ভোট বার্তাই দিতে চাইলেন এটা আর চাপা থাকছে না। সব মিলিয়ে এটাই স্পষ্ট, বাংলার ভোটযুদ্ধের আগে ভাষাই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র—কখনও আবেগ, কখনও রাজনীতি। কিন্তু এই বঙ্গ অনুরাগ কি বাঙালি ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবে ?
