নিজস্ব প্রতিনিধি: মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের বড় পুজো অনুষ্ঠানে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে তাঁরা আসতে পারছেন না বলে দিল্লি থেকে নবান্নকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর তার জেরেই ইডেনের মেগা আয়োজনের আড়ম্বর অনেকটাই কাটছাঁট করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, মোদী-শাহকে মাথায় রেখেই মহালয়ার অনুষ্ঠানের বড়সড় ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা না আসায় এখন ছোট আকারে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না এলেও অনুষ্ঠান বাতিল হচ্ছে না। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্য। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে সব মন্ত্রীকে ওই দিন বাধ্যতামূলকভাবে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনদেরও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে তৃণমূলকে হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতা বদলের পর এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। তাই এবারের পুজোয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সামনে রেখে বড় সরকারি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিল নতুন সরকার। নবান্নের দাবি, প্রথমে মোদী এবং শাহ দুজনেই ইডেনের অনুষ্ঠানে আসার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলেন, পরে কর্মসূচি বদলায় তাঁরা আসতে পারছেন না বলে জানান।
তবে মহালয়ায় না এলেও পুজোর মধ্যে কলকাতায় আসতে পারেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, রাজ্যের বেশ কয়েকটি বড় পুজোর উদ্বোধনে তাঁর থাকার কথা রয়েছে। কেন্দ্রের আরও কয়েকজন মন্ত্রীও পুজো পরিক্রমায় অংশ নিতে কলকাতায় আসতে পারেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ছবিটা এবার অনেকটাই আলাদা। তৃণমূল জমানায় বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি মূলত সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোতেই সীমাবদ্ধ থাকত। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের পুজোতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ভিড় করতেন, অন্য পুজোয় শাসকদলের বাধার অভিযোগও উঠত। এবার সরকার বদলানোর পর কলকাতার বিভিন্ন পুজোয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতি রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।