ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে প্রথমবারের মতো রেলের মানচিত্রে যুক্ত হল মিজোরাম। শনিবার উদ্বোধন করা হল বহু প্রতীক্ষিত বৈরবী-সৈরাং রেললাইন। উত্তর-পূর্ব ভারতের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে তৈরি এই প্রকল্পের ফলে উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন।
প্রায় ৮০৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই রেলপথ, যার মধ্যে রয়েছে ৪৫টি সুড়ঙ্গ, ৫৫টি বড় সেতু এবং ৮৮টি ছোট সেতু। পাহাড় কেটে, দুর্গম বনাঞ্চল অতিক্রম করে তৈরি হওয়া এই রেললাইন ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকদের এক বিরল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসেই আজকের এই ঐতিহাসিক দিন সম্ভব হয়েছে।
এই প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে বৈরবী হয়ে মিজোরাম সরাসরি যুক্ত হবে অসমের শিলচরের সঙ্গে। যার ফলে শুধু পণ্য পরিবহনই নয়, সাধারণ মানুষের চলাচলও অনেক সহজ হয়ে যাবে। অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে মিজোরামের উন্নয়নের পথে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।”
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী মিজোরাম থেকে রওনা হবেন মণিপুরের উদ্দেশে। সেখানকার ইম্ফল ও চুরাচান্দপুরে গিয়ে তিনি ঘরছাড়া মানুষদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। উল্লেখ্য ২০২৩ সালের মে মাসে সাম্প্রদায়িক হিংসার কবলে পড়েছিল মণিপুর। কুকি এবং মেইতি সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের প্রাণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ২০০ জন মানুষ। ঘরছাড়া হতে হয়েছিল শতাধিক মানুষদের। সেই হিংসাত্মক মূলক ঘটনার পর এই প্রথম মণিপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
