ওঙ্কার ডেস্ক: এবছর বর্ষার জেরে কার্যত বেহাল অবস্থা দেশের মহানগরগুলিতে। ইতিমধ্যে শহর কলকাতায় বৃষ্টির দাপটে জল জমেছে বহু এলাকায়। টানা কয়েকদিন অতি গরমে অতিষ্ট দিল্লিতে বর্ষা শুরু হয়েছে কিছু দিন যাবৎ। তার জেরে রাজধানীর বেশ কিছু জায়গায় জল জমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা জারি করেছে হাওয়া অফিস। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের অবস্থাও বেশ খারাপ। গত সপ্তাহে পুনে এলাকায় ধস নেমে আসে। এবার মুম্বাই শহরে হড়পা বানের সম্ভাবনার কথা জানাল আবহাওয়া দফতর।
রাজধানী দিল্লিতে বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্ডারপাসে জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অফিস টাইমে দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। কোথাও গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে, কোথাও জল ঢুকে পড়েছে আবাসন ও বাণিজ্যিক এলাকাতেও। বর্ষার কারণে দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে রাজধানী থেকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন পাম্প বসিয়ে জল নিষ্কাশনের কাজ শুরু করলেও টানা বৃষ্টির কারণে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া দফতর রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।
অন্যদিকে, দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইতেও কয়েক দিন ধরে অবিরাম বর্ষণে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। শহরের একাধিক নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তায় হাঁটু থেকে কোমরসমান জল জমায় যানবাহনের গতি কার্যত থমকে যায়। উপনগরীয় লোকাল ট্রেন পরিষেবা বিলম্বিত হয়েছে, বেশ কয়েকটি উড়ানের সময়সূচিও পরিবর্তন করতে হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জলনিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখতে পুরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সর্বক্ষণ কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।
পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান মহানগর কলকাতাতেও বর্ষার প্রভাব স্পষ্ট। গত কয়েক দিনের দফায় দফায় বৃষ্টিতে শহরের একাধিক নিচু এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমেছে। অফিসযাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে, বিভিন্ন জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা চাপে পড়ায় জল নামতে সময় লাগছে। বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। নদীবন্দর ও বিমান পরিষেবার উপরও আবহাওয়ার প্রভাব নজরে রাখা হচ্ছে।
শুধু এই তিন মহানগরই নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও বর্ষার দাপটে বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু জায়গায় উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা এবং নিম্নচাপজনিত অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। সেই কারণে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে জলমগ্ন এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।