ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরের একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আপাতত পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়েছে ডিম ও সবজি। কেন্দ্রগুলির বাইরে নোটিস টাঙিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বকেয়া অর্থ না মেটানো পর্যন্ত ডিম ও সবজি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। ফলে বর্তমানে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল-ডাল দিয়ে শুধুমাত্র খিচুড়ি রান্না করে দেওয়া হচ্ছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের অভিযোগ, প্রায় চার মাস ধরে ডিম ও সবজি কেনার জন্য বরাদ্দ অর্থ তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। দীর্ঘদিন নিজেদের অর্থ খরচ করে কিংবা দোকান থেকে ধার নিয়ে সামগ্রী কিনে পরিষেবা চালিয়ে গেলেও এখন সেই সুযোগ আর নেই। দোকানদাররাও বকেয়া বেড়ে যাওয়ায় আর ধার দিতে রাজি নন। বিষয়টি তাঁরা শিশু বিকাশ প্রকল্পের আধিকারিক-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন, কিন্তু এখনও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রাপ্য ভাতা এবং ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে শিশু ও মায়েদের জন্য ডিমের ব্যবস্থা করেছেন। অথচ বর্তমানে সরকার যে হারে ডিমের জন্য অর্থ দেয়, বাজারদর তার চেয়ে অনেক বেশি। পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে বকেয়া টাকাও না পাওয়ায় আর নিজেদের পক্ষে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই ডিম সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মী ও সহায়িকারা গণস্বাক্ষর-সহ স্মারকলিপি জমা দিয়ে দ্রুত বকেয়া অর্থ মেটানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রাপ্য অর্থ হাতে পেলেই আবার আগের মতো ডিম ও সবজি দেওয়া শুরু করা হবে।