ওঙ্কার ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের মামলার তদন্তে নতুন আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলার তদন্তে কেম্যান আইল্যান্ডস-ভিত্তিক একটি সংস্থার সঙ্গে কলকাতার একটি বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থার যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। সেই সূত্র ধরে আর্থিক লেনদেন, মালিকানার কাঠামো এবং অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্টার্ড বিমান সংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক অফশোর সংস্থার তথ্য সামনে আসে। তার মধ্যে কেম্যান আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত একটি সংস্থার সঙ্গে কলকাতার ওই বিমান পরিষেবা সংস্থার সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি ইডির। তদন্তকারীরা এখন ওই সংস্থার শেয়ারহোল্ডিং প্যাটার্ন, বিনিয়োগের উৎস, পরিচালন কাঠামো এবং অর্থের প্রবাহ বিশদভাবে পরীক্ষা করছেন। ইডির দাবি, চার্টার্ড বিমান বুকিং, সেই সংক্রান্ত অর্থপ্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে হওয়া আর্থিক লেনদেনের নথি বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন ব্যাঙ্কিং নথি, কর্পোরেট রেকর্ড এবং আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিদেশি তদন্তকারী সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের দাবি। অফশোর সংস্থার মাধ্যমে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং সেই অর্থ কোনওভাবে চার্টার্ড বিমান পরিষেবার খরচ বহনে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং লেনদেনের প্রকৃত চরিত্রও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই একই মামলার তদন্তে এর আগেও একাধিক আর্থিক নথি পরীক্ষা করেছে ইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এই ধরনের তদন্ত চালানো হচ্ছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন থাকায় ইডির দাবি এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।