ওঙ্কার ডেস্ক: পাটনা জেলার দানাপুর মহকুমার মানাস গ্রামে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে আচমকাই ভেঙে পড়ে বাড়ির ছাদ। মুহূর্তের মধ্যেই মৃত্যু হয় বাবা, মা ও তাঁদের তিন সন্তানের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটি বহু বছর আগে ইন্দিরা আবাস যোজনা প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হয়েছিল। বহুদিন ধরেই সেটিকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, কিন্তু অর্থাভাবের কারণে পরিবারটি সেখানেই বাস করছিল।
মৃতদের নাম বাবলু খান, তাঁর স্ত্রী রোশন খাতুন, পুত্র মোহাম্মদ চাঁদ, কন্যা রুখসার এবং সর্বকনিষ্ঠ কন্যা চাঁদনি। জানা গিয়েছে, রাতের খাবারের পর সবাই একসঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন। তখনই হঠাৎ জোর আওয়াজে ভেঙে পড়ে বাড়ির ছাদ। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগালেও, ততক্ষণে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনেরই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাড়িটির ছাদে ইতিমধ্যেই ফাটল ধরেছিল এবং বর্ষার সময় জল চুঁইয়ে পড়ছিল। প্রশাসনের তরফে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হলেও, নতুন বাড়ি নির্মাণের মতো সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা পুরনো বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ইন্দিরা আবাস যোজনায় তৈরি বহু বাড়িই বর্তমানে দুর্বল ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবু কোনও মেরামতির ব্যবস্থা করা হয়নি। এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আশেপাশের অনিরাপদ বাড়িগুলির তালিকা তৈরি করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মানাস গ্রামের এই দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সরকারি আবাসন প্রকল্পের মান এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে। অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে হাজার হাজার মানুষ আজও বসবাস করছেন এমন বাড়িতে, যেগুলি যে কোনও মুহূর্তে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
