ওঙ্কার ডেস্ক: পঞ্জাবের জলন্ধরের মডেল টাউন এলাকায় দিনের আলোয় গুরুদ্বারের সামনে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। আম আদমি পার্টির স্থানীয় নেতা লাকি ওবরয়কে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। আচমকা গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুরুদ্বারের বাইরে নিজের গাড়িতে বসে ছিলেন তিনি। সেই সময় দুই দুষ্কৃতী মোটরসাইকেলে এসে গাড়ির কাছে থেমে সরাসরি গুলি চালিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওবেরয়। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল এবং শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগায় রক্তক্ষরণেই মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌঁছে চারপাশ ঘিরে ফেলে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
লাকি ওবরয় এলাকায় পরিচিত রাজনৈতিক মুখ ছিলেন। দলের সংগঠনিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁর একটি আলাদা পরিচিতি ছিল। হঠাৎ এই হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রকাশ্যে, ধর্মীয় স্থানের সামনে এমন নৃশংস হামলায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কড়া শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র উদঘাটনে তদন্ত জোরকদমে চলছে এবং খুব শিগগিরই দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
