ওঙ্কার ডেস্ক: চার দশকেরও বেশি সময় পর ১৯৮৫ সালের এয়ার ইন্ডিয়ার ‘কনিষ্ক’ (ফ্লাইট ১৮২) বিস্ফোরণকাণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি করল কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (CSIS)। সংস্থাটি প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যে কানাডাভিত্তিক খালিস্তানি জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ভারত এই অভিযোগ তুলে এলেও এতদিন কানাডার সরকারি নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
১৯৮৫ সালের ২৩ জুন মন্ট্রিয়ল থেকে লন্ডন হয়ে দিল্লি ও মুম্বইগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৮২, যার নাম ছিল ‘কনিষ্ক’, আয়ারল্যান্ডের উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরের আকাশে বিস্ফোরণের ফলে ভেঙে পড়ে। বিমানে থাকা ৩২৯ জন যাত্রী ও বিমানকর্মীর সকলের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক। এই ঘটনাকে এখনও পর্যন্ত কানাডার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়।
সন্ত্রাসবাদে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত বিবৃতিতে CSIS জানায়, কানাডায় সক্রিয় খালিস্তানি উগ্রপন্থীদের পরিকল্পনাতেই বিমানে বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল এবং সেই বিস্ফোরণের জেরেই কনিষ্ক বিমানটি ধ্বংস হয়। সংস্থার মতে, এই হামলা শত শত নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ইতিহাসেও একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।
ঘটনার তদন্তে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক ব্যক্তি সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে এলেও বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ছিল। ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও অধিকাংশই প্রমাণের অভাবে খালাস পান। কেবল বিস্ফোরক তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে একজন দোষী সাব্যস্ত হন। ফলে বহু বছর ধরে নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব থেকেছেন। এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও কনিষ্ক বিস্ফোরণে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, এটি কানাডার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। তিনি সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভারত অভিযোগ করে এসেছে যে কানাডার মাটিকে ব্যবহার করে খালিস্তানি উগ্রপন্থীরা ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে এসেছে। বিগত কয়েক বছর ধরের ভারতের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। সেদেশের পুর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বরাবর ভারতের বিরোধিতা করে এসেছেন। ২০২৩ সালে তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দাবি করেছিলেন খালিস্থানি নেতা হরদীপ সিং নজ্জরের হত্যার নেপথ্যে ভারতের হাত আছে। সেই দাবি সম্পুর্ন খারিজ করে দেয় নয়া দিল্লি। সেই ঘটনার তিন বছর পর কানাডার গোয়েন্দা সংস্থার এই আনুষ্ঠানিক অবস্থান দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।