ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে বিমান পরিষেবায় বড়সড় কাটছাঁটের পথে হাঁটছে দেশের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলি। আগামী কয়েক মাসে প্রতিদিন প্রায় ২৫০টি দেশীয় উড়ান কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো। এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই বিমানভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তার জেরে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধিই মূলত এই সিদ্ধান্তের অন্যতম বড় কারণ। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি নির্দিষ্ট রুটে যাত্রীসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় সংস্থাগুলি খরচ কমাতে পরিষেবা পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটছে।
জানা গিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই কাটছাঁট কার্যকর হতে পারে। এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক রুটে বেশ কিছু উড়ান কমিয়েছে। এবার দেশীয় ক্ষেত্রেও বড় অংশের পরিষেবা সাময়িকভাবে হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ান পরিচালনা করে। তবে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে রুট ও পরিষেবার সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো দেশীয় পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য হারে উড়ান কমানোর পথে হাঁটছে। যদিও সংস্থার তরফে এটিকে আংশিকভাবে মৌসুমি চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবা পুনর্বিন্যাস বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবুও প্রতিদিনের মোট উড়ান সংখ্যায় বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উড়ান কমে গেলে বিমান টিকিটের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিমানভাড়ায়। বিশেষ করে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-সহ ব্যস্ত রুটগুলিতে ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, যেসব উড়ান বাতিল বা কমানো হবে, সেইসব ক্ষেত্রে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইট, তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ কিংবা প্রয়োজনে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও রাখা হবে। তবে গরমের ছুটি ও পর্যটনের মরশুমে এই সিদ্ধান্ত সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাড়তি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মনে করছে পর্যটন মহল।