ওঙ্কার ডেস্ক: ট্রাম্প প্রশাসন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিকে হুঁশিয়ারি দিল ইরান। তেহরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে তাহলে অন্য কেউ বিশ্ববাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে না। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে দেবে না ইরান। মার্কিন বাহিনী সরে গেলে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরবে বলে মত ইরানের স্পিকারের।
সমাজ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কেউ-ই তেল বিক্রি করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনও অবকাঠামো নিরাপদ থাকবে না। আর এই প্রণালীর নিরাপত্তা নির্ভর করছে মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতির ওপর। আমরা বারবার বলেছি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আর যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।’ হরমুজ প্রণালীতে ইরান কোনও জাহাজে গুলি চালালে মার্কিন বাহিনী প্রতিবারই একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করবে, সম্প্রতি এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘এখন থেকে, যখনই ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনও জাহাজে হামলা করবে—তা ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন—ওয়াশিংটন একটি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বোমা মেরে ধ্বংস করবে। এর মধ্যে তেহরানের ভেতরে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোও থাকবে।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে টানা দ্বাদশ রাতে হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষই এখন বেসামরিক কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ‘আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার ক্ষমতা আরও কমিয়ে আনা।’ প্রসঙ্গত, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে আরও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তাঁর দেশ ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করবে।