ওঙ্কার ডেস্ক: বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি ছোট চার্টার বিমান আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে জ্বলে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নামার সময় বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল, তারপর হঠাৎ বিকট শব্দের সঙ্গে ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয় বিমানবন্দরের আশপাশে।
বিমানটিতে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার সহ মোট পাঁচ জন ছিলেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কারও প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পাইলট, সহ-পাইলট এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় দমকল, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলে। ভগ্নাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে রানওয়ের একাংশ জুড়ে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়। অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বারামতীর মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং সংগঠনিক দক্ষতার জন্য তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর তাঁকে স্তম্ভিত করেছে। তিনি অজিত পাওয়ারের পরিবার ও অনুগামীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও শোকবার্তায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও শোকপ্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অবতরণের সময় প্রযুক্তিগত সমস্যা সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমান চলাচল দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা ব্ল্যাক বক্স পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছেন।
