ওঙ্কার ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে গ্রেফতার করে বড়সড় চুরির চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। একাধিক বাড়িতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ।
ধৃতের বয়স প্রায় ২৭ বছর। জানা গিয়েছে, তিনি আগে একটি বেসরকারি আইটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। শিক্ষিত ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও কয়েক মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপরই দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে চুরির পথে হাঁটেন বলে অভিযোগ। বিলাসবহুল জীবনযাপনের নেশাই তাকে অপরাধ জগতে টেনে আনে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গভীর রাতে ফাঁকা বা তালাবন্ধ বাড়ি টার্গেট করতেন অভিযুক্ত। বাড়ির লোকজন বাইরে থাকলেই সুযোগ বুঝে দরজা বা জানালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়তেন। সোনা, রূপা, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিতেন। একই কায়দায় একের পর এক চুরির ঘটনায় পুলিশের মাথাব্যথা বাড়ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিশাখাপত্তনম শহরেই অন্তত ২৬টি বাড়ি চুরির সঙ্গে তার সরাসরি যোগ রয়েছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত মিলিয়ে মোট প্রায় ৬০টি চুরির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করা হচ্ছে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রায় ৭০০ গ্রাম সোনা, কয়েক কেজি রূপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ এবং একটি বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। ধারণা, চুরি করা টাকাতেই ওই দামি গাড়িটি কেনা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপরাধ করত। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আগে থেকে বাড়ির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করত। কোথায় নিরাপত্তা কম, কোন বাড়ি দীর্ঘ সময় ফাঁকা থাকে এসব খোঁজখবর নিয়ে তারপর চুরি করত। তাই দীর্ঘদিন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল সে।
এই গ্রেফতারের ফলে একাধিক অমীমাংসিত মামলার কিনারা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। বর্তমানে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
