ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার যুবক অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যে ব্যাখ্যা সামনে আনা হয়েছে, তা মানতে নারাজ মৃত যুবকের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত কারণ আড়াল করা হচ্ছে এবং বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার দিকটি ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করে দেখানো হচ্ছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, দেরাদুনে কর্মসূত্রে থাকা অ্যাঞ্জেল চাকমা ও তাঁর ভাই মাইকেলের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বচসা বাধে। সেই সময় উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দা হওয়ার কারণে তাঁদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য ও বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়। বচসা দ্রুত মারধরে পরিণত হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় অ্যাঞ্জেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তাঁর ভাইও আহত হন এবং এখন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। পুলিশের মতে, এটি একটি সাধারণ বিবাদ থেকে হওয়া সংঘর্ষ, যেখানে ব্যক্তিগত বচসা বড় আকার ধারণ করে। তবে এই বক্তব্যকে ‘অসম্পূর্ণ ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে অ্যাঞ্জেলের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহত ভাইয়ের বয়ানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
অ্যাঞ্জেলের মৃত্যু ঘিরে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজের নানা স্তর থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে বসবাসকারী উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, শুধু আইনি প্রক্রিয়াই নয়, ঘটনার সামাজিক দিকটিও সামনে আনা জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, যদি এই ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোখা কঠিন হবে। পুলিশ ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের কথা জানিয়েছে। তবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে অ্যাঞ্জেল চাকমার পরিবার এবং গোটা দেশ।
