ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকায় এক বাঙালি অধ্যাপিকার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে তাঁর দেহ। মৃতার নাম দেবস্মিতা পাল। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা ছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং তদন্তে নেমেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবস্মিতা দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসনে একাই বসবাস করতেন। কর্মসূত্রে তাঁর স্বামী বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। পারিবারিক কারণে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবং বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও চলছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেবস্মিতার সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তাঁর দিদি সরাসরি ফ্ল্যাটে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান দরজা ভিতর থেকে বন্ধ রয়েছে। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনও উত্তর না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা ভাঙা হয়। ভিতরে ঢুকতেই মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় দেবস্মিতাকে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃতার মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। ঘরের ভিতরে ধস্তাধস্তির কিছু প্রমাণ মিলেছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাট থেকে কোনও মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যায়নি। নগদ অর্থ, গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় ছিল। ফলে শুধুমাত্র ডাকাতি বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছে না পুলিশ। বরং ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক বিরোধ অথবা অন্য কোনও পরিকল্পিত কারণ এর পিছনে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে অধ্যাপিকার মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাম্প্রতিক যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর পরিচিত মহল, সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। সম্প্রতি কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ বা হুমকির ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে পরিবার, শিক্ষামহল এবং সাধারণ মানুষের।