ওঙ্কার ডেস্ক: চাঞ্চল্যকর ঘটনা পাঞ্জাবের মোহালিতে। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এক তরুণীকে তাঁরই সহকর্মী ছুরি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করল। অভিযুক্ত তরুণীর প্রাক্তন প্রেমিক বলে জানা গিয়েছে। প্রাক্তনকে খুনের পর ওই যুবক নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অফিসের ভেতরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে বচসার জেরে এই ঘটনা বলে মত তদন্তকারীদের। অভিযুক্ত যুবকের নাম হরবিন্দর মান ওরফে হ্যারি।অফিসে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত অফিসে আসেন। সেই সময় ডেস্কে বসে কাজ করছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা ডিম্পল। অফিসে ঢুকে হ্যারি আচমকা পেছন থেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন ডিম্পলকে। তরুণী প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাঁর পিছু ধাওয়া করে চুলের মুঠি ধরে অফিসের দরজার কাছে টেনে নিয়ে যান। এর পর লাগাতার ছুরি দিয়ে কোপাতে থাকেন। ওই অফিসের চার-পাঁচজন কর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
ডিম্পল নিথর হয়ে পড়লে অভিযুক্ত কোপানো বন্ধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে প্রাক্তন প্রেমিকাকে প্রায় ২০ বারেরও বেশি ছুরিকাঘাত করেছেন হ্যারি। ডিম্পলকে কোপানোর পর নিজের গলা কাটার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। নিজের গলায় ৩০ বারেরও বেশি ছুরিকাঘাত করেন হ্যারি। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে কর্মীরা পুলিশকে খবর দেন। দুজনকে কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে অভিযুক্তের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পুলিশ অভিযুক্ত ও নিহত—উভয়ের পরিবারকে বিষয়টি জানিয়েছে। তাঁরা পাটিয়ালার বাসিন্দা বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, হ্যারি ও ডিম্পল একটি ‘প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স’ সংস্থায় প্রায় তিন বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছিলেন। এই সময়ে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন আগেই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। অভিযুক্ত সম্পর্কটি পুনরায় গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন, যার ফলে তিনি হতাশ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে মত তাঁর সহকর্মীদের।