ওঙ্কার ডেস্ক: চেন্নাইয়ের তামারানি ও আদয়ার এলাকায় একই পরিবারের এক ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী এবং দুই বছরের শিশুপুত্রকে খুন করে দেহ আলাদা আলাদা স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সকালে আদয়ারের ইন্দিরা নগর ফার্স্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় রাস্তার ধারে একটি বস্তাবন্দি দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তা খুলে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রাথমিক তদন্তেই এটি খুনের ঘটনা বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
মৃত ব্যক্তির পরিচয় গৌরব কুমার (২৪) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বিহারের বাসিন্দা এবং কাজের সূত্রে চেন্নাইয়ে এসে তামারানির একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী মিনিতা কুমারী এবং দুই বছরের ছেলে বিরমনি কুমার থাকতেন। গৌরবের দেহ উদ্ধারের পর থেকেই তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ ছিলেন, যা নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হয়।
পরিবারের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ কোয়ুম নদীর একটি অংশ থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহিলার দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন নদীর পাড়, ডাম্পিং গ্রাউন্ড এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের রাতে গৌরব কয়েকজন পরিচিত শ্রমিকের সঙ্গে ছিলেন। মদ্যপানকে কেন্দ্র করে বচসা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা প্রথমে গৌরবকে মারধর করে হত্যা করে এবং পরে তাঁর স্ত্রীর উপর নির্যাতনের চেষ্টা করে। বাধা পেয়ে তাঁকেও খুন করা হয়। ঘটনার সাক্ষী হয়ে পড়ায় শিশুটিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, প্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ভিনরাজ্য থেকে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট পেশ করা হবে।
