ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন শেষে এনডিএ জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ২০ নভেম্বর পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে শপথগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন সকালে বর্তমান মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে নীতিশ কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। এরপরই নতুন সরকার গঠনের পথ খুলে যাবে।
নীতিশ কুমার আবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। জোটের ভেতরে আলোচনাও চলছে। জেডিইউ, বিজেপি, এলজেপি-আরভি ও অন্যান্য ছোট সহযোগী দল মিলিয়ে মন্ত্রিসভা বণ্টন নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। কোন দলে কতজন মন্ত্রী থাকবেন, তা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। গান্ধী ময়দান পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে যাতে প্রস্তুতিতে কোনও বাধা না আসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিহারে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
রবিবার সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা নিয়ে রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খানের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিনোদ সিং গুঞ্জিয়াল। তথ্য অনুযায়ী, ২৪৩ আসনের বিধানসভায় ২০২টি আসন জিতে এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় ফিরেছে। বিজেপি পেয়েছে ৮৯ আসন, জেডিইউ ৮৫, চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি ১৯ এবং ছোট অংশীদার হ্যাম ও আরএলএম মিলে ৯ আসন।
সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলার পাশাপাশি দিল্লিতে এনডিএ-র সমন্বয় বৈঠকে যোগ দেন জেডিইউ-র কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা। তিনি জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠন হবে এবং জোটের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলিই হবে আগামী দিনের কাজের মূল লক্ষ্য।
এদিকে জেডিইউ-র ভেতরে মন্ত্রিসভায় বেশি আসন দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক নেতা জানান, গতবার মন্ত্রিসভায় জেডিইউ-র মাত্র ১২ জন মন্ত্রী ছিলেন, অথচ এবার দলের আসন বেড়েছে। তাই নতুন মন্ত্রিসভায় আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের দাবি উঠেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এলজেপি ও আরএলএম, এই দুই নতুন অংশীদারকে সন্তুষ্ট করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। এলজেপি প্রধান চিরাগ পাসওয়ান জানিয়েছেন, তাঁর দল সরকারে থাকতে চায়। কিন্তু তাঁরা উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। উল্লেখ্য, আগের সরকারে বিজেপির সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহা ছিলেন দুই উপমুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে শিকন্দর বিধায়ক প্রফুল্ল মাঞ্জিকে দলনেতা নির্বাচন করেছে। দলের এমএলসি সন্তোষ কুমার সুমন জানিয়েছেন, নীতীশ কুমারের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং আবারও মানুষের সেবা করাই তাদের লক্ষ্য।
এদিকে সরকার গঠন নিয়ে ব্যস্ত এনডিএ-র অংশীদাররা। রবিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন জীতেনরাম মাঞ্জি ও উপেন্দ্র কুশওহা। সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার আসন ভাগাভাগি এবং সরকার গঠনের খুঁটিনাটি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ঐ বৈঠকে।
