ওঙ্কার ডেস্ক : ২০১৫ সাল থেকে নানাভাবে বিহারের ক্ষমতায় রয়েছেন নীতিশ কুমার। ২০২৫-এর নির্বাচনে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এখন পাখির চোখ বিরোধী মহাজোটের। কিন্তু কে হবেন এই লড়াইয়ের মুখ, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটল না। ভোটের আর ৩০ দিনও বাকি নেই, তবু এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারেনি বিরোধী মহাজোট। দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই ধোঁয়াশা দেখা দিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা উদিত রাজের মন্তব্যে এই অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেছেন, “তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য তার দলের পছন্দ হতে পারেন, তবে তিনি এখনও ইন্ডিয়া ব্লকের পছন্দ নন, কংগ্রেসের নেতৃত্বে জাতীয় স্তরের বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্ট এবং যার মধ্যে আরজেডিও রয়েছে।” উদিত এও জানিয়েছেন, “ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থী এখনও ঠিক করা হয়নি। দেখা যাক কংগ্রেস সদর দপ্তর কী সিদ্ধান্ত নেয়।“
আরজেডি বা তেজস্বী যাদব কেউই উদিত রাজের এই মন্তব্যের জবাব দেননি। যদিও এর আগে তেজস্বী জানিয়েছিলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর মুখ না দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না”। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মুখ নিয়ে এই গুঞ্জন চলছে কয়েক মাস ধরেই। আরজেডি-কংগ্রেসের বাইরে, তেজস্বী যাদবকে একমাত্র বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হয়। একজন রাজনৈতিক নেতা ও জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার নিরিখে এই মুহূর্তে তেজস্বী যাদবই একমাত্র বিকল্প যিনি নীতিশ কুমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। একেই তিনি আরজেডির শ্রষ্ঠা লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে এবং দু’ বারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতাও কাজে দেবে।
কিন্তু কংগ্রেস তেজস্বী যাদবকে প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদের মুখ হিসেবে মেনে নিতে পারছে না। তাই এমন প্রশ উঠলেই তাঁরা এড়িয়ে যাচ্ছেন। সিদ্ধান্তের বিষয়টি ঠেলে দিচ্ছেন দলের হাই-কমান্ডের উপর। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীও এই প্রশ্নটি এড়িয়ে গেছেন। তেজস্বী যাদবকে পাশে বসিয়ে রাহুল সাংবাদিকদের বলেছেন, “ইন্ডিয়া ব্লক অংশীদাররা কাজ করছে… কোনও উত্তেজনা ছাড়াই। আমরা একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং ফলাফল ভালো হবে।”
একেই বিরোধী জোটের ফাটল ফিসেবে দেখিয়ে ভোট ময়দানে নেমেছে বিজেপি। কারণ, এই ইস্যুতে আরজেডি ও কংগ্রেসের মধুচন্দ্রিমা ভেঙে যেতে পারে এমন একটা হাওয়া উঠতে শুরু করেছে।
