ওঙ্কার ডেস্ক: কর্ণাটকের হুবল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এক বিজেপি মহিলা কর্মীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার সময় মারধর ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কর্ণাটকে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন সংক্রান্ত প্রতিবাদের সময়। অভিযোগ, ওই বিজেপি মহিলা কর্মীকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের আচরণ অত্যন্ত রূঢ় ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁকে একটি বাসের ভিতরে ঘিরে ধরে রয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী, যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলা দু’জনই ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আটক করার সময় তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক কংগ্রেস কর্পোরেটরের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই মহিলাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে আগেই কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা। যদিও সংশ্লিষ্ট বিজেপি মহিলা কর্মী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও বেআইনি কাজে যুক্ত ছিলেন না এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিজেপির তরফে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, একজন মহিলার সঙ্গে এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দায়ী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, কংগ্রেস শিবিরের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সময় পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
