ওঙ্কার ডেস্ক: পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু মস্তিষ্কে গুরুতর চোট পাওয়ার কারণে গুজরাটের কৃষককে ব্রেন ডেথ হিসেবে ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা। এই পরিস্থিতি থেকে আর জীবনে ফেরা সম্ভব নয়। আর সে কারণে ওই কৃষকের পরিবার অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যার ফলে সাত জন রোগীর প্রাণ বেঁচেছে।
রিপোর্ট অনুসারে, ব্রেন ডেথ হওয়া ওই কৃষকের নাম মনুভাই পারমার। ৩৯ বছর বয়স তাঁর। গত ১২ এপ্রিল একটি পথ দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর চোট পান। এর পর আহমেদাবাদের একটি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ব্রেন ডেথ হিসেবে ঘোষণা করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল তাঁর স্ত্রী অর্খবেনের সঙ্গে কথা বলে। পরিবারকে অঙ্গদানের জন্য পরামর্শ দেয়। নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার পর পরিবারটি তাঁর হৃৎপিণ্ড, যকৃত, কিডনি, চোখ এবং ত্বক দান করতে রাজি হয়। যার ফলে জরুরিভাবে সাত জন রোগীর দেহে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। ওই ব্যক্তির যকৃত এবং কিডনি আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতাল রোগীদের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। হৃৎপিণ্ডটি প্রতিস্থাপন করা হয় আহমেদাবাদের সিআইএমএস হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর দেহে। তাঁর চোখ দুটি এম অ্যান্ড জে চক্ষু হাসপাতালে দান করা হয়। ত্বকটি সিভিল হাসপাতালের স্কিন ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়।
আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালের সুপার রাকেশ জোশী পরিবারের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মনুভাই পেশায় কৃষক হলেও। তাঁর বিদায় বেলায় পরিবারের এই মানবিক পদক্ষেপ সাতজনকে নতুন জীবন দিয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, ব্রেন-ডেথ হওয়া রোগীদের পরিবারের মধ্যে অঙ্গদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত, আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতাল ২৩৪ জন ব্রেন-ডেথ রোগীর অঙ্গদানের ব্যবস্থা করেছে। যার ফলে ৪৩১টি কিডনি, ২০৮টি লিভার, ৭৪টি হৃৎপিণ্ড এবং ৩৪টি ফুসফুস-সহ মোট ৭৭৪টি অঙ্গ সংগ্রহ করা হয়েছে।