ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পোলিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একটি মামলার শুনানিতে আদালতে অভিযোগ করা হয়, কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা বা নোটিফিকেশন ছাড়াই মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে আদালত সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চায়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরনের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং কেন নির্দিষ্ট একটি পেশার মানুষদেরই বেছে নেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।
শুনানির সময় বিচারপতি কটাক্ষ করে বলেন, যদি আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি কর্মীকে এই দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে বিচারপতিদের কেন এই তালিকার বাইরে রাখা হচ্ছে? এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, প্রয়োজনে তাঁকেও এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত। আদালত আরও জানায়, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় যদি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই ধরনের বিষয় নিয়ে মামলা হলে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এই মুহূর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করলে নির্বাচনী কাজ ব্যাহত হতে পারে। তবে আবেদনকারীদের দাবি, বিকল্প কর্মী থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের উপর এই দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অন্যায্য এবং অসঙ্গত। ভবিষ্যতে এই মামলার গতিপ্রকৃতি রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।