ওঙ্কার ডেস্ক: পার্লামেন্টে নবম বারের মত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী নির্মালা সীতারামন। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনে বাজেটের মূল প্রতিশ্রুতি দেশের যুব সমাজ স্বশক্তিকরণ। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সত্ত্বেও দেশকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রবিবার লোকসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে দেশের অর্থনীতি।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, সরকারের মূলমন্ত্র ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। সেই লক্ষ্যেই সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিধা বা অনিশ্চয়তার বদলে সরকার বরাবরই দৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছে। কাঠামোগত সংস্কার, আর্থিক শৃঙ্খলা, মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা এবং সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়ার ফলেই অর্থনীতি একটি শক্ত ভিত পেয়েছে।
সীতারামন জানান, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বর্তমানে বাণিজ্য ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা চাপে পড়েছে। পাশাপাশি সম্পদ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন দেখা দিচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির আগমনে উৎপাদন ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে, যার ফলে জল, শক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের চাহিদাও বাড়ছে। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অন্তর্ভুক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ভারত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিকশিত ভারতের পথে এগোবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের সার্বিক বিকাশের জন্য দেশের যুব সমাজকে মজবুত করার প্রয়োজন। এর জন্য শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিল্পখাতে পরিকাঠামো উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা, অর্থনৈতিক বিকাশ কেও বজায় রাখতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্র এবং শিল্প খাতে উন্নত পরিকাঠামো, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেছেন নির্মালা সীতারামণ। সাধারণ মানুষজনের কথা ভাবতে হবে সরকারকেই, সেদিকেও খেয়াল রাখছে বাজেট ছাব্বিশ।
এদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকারের পঞ্চদশ বাজেট এবং টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন। দেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা নবমবার বাজেট পেশ করার নজিরও গড়লেন সীতারামন। এবারের বাজেটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
যুবসমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে বাজেট পেশের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০ জন কলেজ পড়ুয়ার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন অর্থমন্ত্রী। তাঁরা লোকসভা গ্যালারি থেকে সরাসরি বাজেট উপস্থাপনা দেখার সুযোগ পেয়েছেন, যা সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দেবে। বাজেট তৈরির আগে দেশের নাগরিকদের, বিশেষ করে যুবশক্তির কাছ থেকেও বিভিন্ন মাধ্যমে মতামত নেওয়া হয়েছে, যা আসন্ন অর্থবর্ষের বাজেটে প্রতিফলিত হবে বলে জানানো হয়েছে। যুবশক্তির ক্ষমতায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সামনে রেখেই দেশের অর্থনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সরকারের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
