ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় সম্মান রক্ষার আইনে সংশোধন এনে ‘বন্দে মাতরম্’-কে একই আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর ফলে জাতীয় সঙ্গীতের মতো জাতীয় গানকেও সমান মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১’-এ সংশোধনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম্’-এর অবমাননা, অসম্মান বা পরিবেশনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে এই আইন মূলত জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা এবং সংবিধানের প্রতি অসম্মানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সংশোধনের পর জাতীয় গানও সেই তালিকায় যুক্ত হবে।
অতীতে কেন্দ্র সরকার সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকায় পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে আরও একধাপ এগিয়ে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে ‘বন্দে মাতরম্’ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত এই গান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ১৯৫০ সালে সংবিধান সভা ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও জাতীয় সঙ্গীতের মতো একই স্তরের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এর মর্যাদা বৃদ্ধির দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে সরকারপক্ষের বক্তব্য, জাতীয় ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা আন্দোলনের আবেগকে আরও শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা রক্ষায় এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তবে বিরোধীদের দাবি, জাতীয় আবেগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু মহল আবার সাংবিধানিক ভারসাম্য ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নও তুলেছে।