ওঙ্কার ডেস্ক: “যে কোনো ভূমিকায় সমানে লড়ে যাই, আপনি যা চান আমি ঠিক তাই” ২০০৩ সালের পাতালঘর সিনেমার সেই গান যেন আজ খুবই প্রাসঙ্গিক, সোমবার বাংলায় পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ‘ডিগবাজি’ হওয়ার সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। সেই সময় ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন একদা দাপুটে গায়ক কবীর সুমন। এই আবহে সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘’তিনি তো তৃণমূলপন্থী নন তাঁকে জোর করে তৃণমূল পদ দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি ক্ষমতালোভী নন।‘’ তাঁর এহেন মন্তব্যের জেরে পাল্টা মন্তব্য করতে ছাড়েননি তসলিমা নাসরিন।
গত মার্চ মাসে তৃণমূল সরকারের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কবীর সুমন। তবে এইবার পালাবদলের ঠিক আগে ‘ডিগবাজি’ মেরে দিলেন নিউ অয়েভ-র বিখ্যাত গায়ক কবীর সুমন। এবার তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে রিতিমত চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে নেমে পড়েছেন নেটিজেনরা। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের বিধ্বংসী রেজাল্ট নিয়ে সঙ্গীতশিল্পীর মত, “জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন।” সুমনের এহেন সাক্ষাৎকার দাবানল গতিতে ভাইরাল হতেই কটাক্ষ, সমালোচনার ঝড়! তোপ দাগতে পিছপা হলেন না লেখিকা তসলিমা নাসরিনও।
তাঁর বক্তব্য, “তিনিই তো বলেছিলেন, আজ থেকে ৩০০ বছর পর মমতার নামে পুজোআচ্চা হবে, মন্দিরও হবে। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে একটি গানও বেঁধেছিলেন, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা করে একটি গান বেঁধেছিলেন। কবীর সুমন কেবল গানই বাঁধেননি, মমতা কে নিয়ে গানের রাগ ও বেঁধেছিলেন। কিন্তু এরপর কি হবে।