ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দেশের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণী সংস্থা আই-প্যাককে ঘিরে চর্চা তীব্র হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার, কৌশল এবং জনসংযোগ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে এবার বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাংলায় তৃণমূলের প্রত্যাশার তুলনায় অত্যন্ত খারাপ ফলাফল সামনে আসতেই বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি মিত্র রাজনৈতিক দলগুলিও আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে পুনর্বিবেচনার পথে হাঁটছে।
এই পরিস্থিতিতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব স্পষ্টভাবে আই-প্যাক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাজবাদী পার্টি ইতিমধ্যেই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করার কাজে নেমেছে। তবে বাংলার নির্বাচনী ফলাফলের পরে আই-প্যাকের কৌশলগত দক্ষতা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব এখন বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে। অখিলেশ শিবির মনে করছে, শুধুমাত্র বাহ্যিক নির্বাচনী কৌশলের উপর নির্ভর না করে মাটির স্তরে সংগঠন ও জনসংযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় তৃণমূলের ব্যর্থতা শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফল নয়, বরং নির্বাচনী পরিকল্পনার বড়সড় দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে। ভোটারদের মনোভাব সঠিকভাবে মূল্যায়ন, বিরোধী প্রচারের মোকাবিলা এবং স্থানীয় ইস্যুকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে আই-প্যাক ব্যর্থ হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠছে। ফলে আই-প্যাকের দীর্ঘদিনের সফল ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই ঘটনাকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলিও নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টি নতুনভাবে পর্যালোচনা করছে। কারণ রাজনৈতিক বাস্তবতা, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক শক্তির সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী কৌশলের ভারসাম্য রক্ষা না হলে ফল যে বিপর্যয়কর হতে পারে, বাংলার ফলাফল তার বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।