ওঙ্কার ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে মাওবাদী দমন অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্যের বস্তার ডিভিশনের অন্তর্গত সুকমা ও বিজাপুর জেলায় দুটি পৃথক সংঘর্ষে মোট ১৪ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে জেলা রিজার্ভ গার্ড ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী অংশ নেয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চল মাওবাদী কার্যকলাপের জন্য স্পর্শকাতর বলে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুকমা জেলার কিস্তারাম থানা এলাকার গভীর জঙ্গলে মাওবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে। তল্লাশি চলাকালীন আচমকাই মাওবাদীরা গুলি চালাতে শুরু করে, পাল্টা জবাব দেয় বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা গুলির লড়াই শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১২ জন মাওবাদীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী নেতা বলে দাবি করেছে পুলিশ। সংঘর্ষস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, ইনসাস রাইফেল, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও মাওবাদী সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে বিজাপুর জেলার বাসাগুড়া এলাকার জঙ্গলেও পৃথক অভিযানে আরও দু’জন মাওবাদী নিহত হয়। সেখানেও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় পৌঁছয়। তল্লাশি চলাকালীন সংঘর্ষ শুরু হলে দুই মাওবাদী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের পরও জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে, কারণ আশপাশে আরও মাওবাদী লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বস্তার অঞ্চলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাওবাদী বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ফলেই মাওবাদীদের উপর চাপ বাড়ছে। এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে রাজ্যে মাওবাদী দমনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।
