ওঙ্কার ডেস্ক: বেঙ্গালুরুতে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতির অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতারা। সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিতে গিয়ে বিজেপি বিধান পরিষদ সদস্য তথা দলের প্রাক্তন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সি টি রবি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক পাল্টা অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস ক্রমশ হিন্দু-বিরোধী রাজনীতির দিকে এগোচ্ছে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধকে অস্বীকার করছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রবি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং নবনিযুক্ত কেপিসিসি সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ বিজেপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা বিজেপিরই রয়েছে, অথচ কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বারবার সংবিধানকে ব্যবহার করেছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের সংবিধানের মূল চেতনায় দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন রয়েছে। সংবিধানে রাম, কৃষ্ণ এবং গৌতম বুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের চিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে রবি বলেন, ভারতীয় দর্শনের মূল ভিত্তি হল সব ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি সমান শ্রদ্ধা।
হিন্দুত্ব প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার বক্তব্য, হিন্দুত্ব কোনও সংকীর্ণ রাজনৈতিক ধারণা নয়, বরং এটি ভারতের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর দাবি, দেশের সর্বোচ্চ আদালতও অতীতে হিন্দুত্বকে একটি জীবনধারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সেই কারণেই হিন্দুত্বকে আক্রমণ করা মানে ভারতের ঐতিহ্য ও পরিচয়কে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো। তিনি আরও বলেন, ভারতের অস্তিত্ব ও জাতীয় চরিত্র রক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দুত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংবিধান সংশোধনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন রবি। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকে বহুবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে এবং তার অধিকাংশই কংগ্রেস সরকারের আমলে। এই সংশোধনগুলির একটি বড় অংশ ক্ষমতা ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, যে দল বারবার সংবিধানে পরিবর্তন এনেছে, সেই দলের পক্ষে সংবিধান রক্ষার দাবি তোলা রাজনৈতিক ভণ্ডামির শামিল।