তাপস মহাপাত্র
তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্প চালু করতে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার গভীর রাতে হটাৎই নির্বাচন কমিশন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশ আসে। শুধু তাই নয়, এই খবর ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ব্যাপক প্রচার’ চালাতেও বলা হয়। খবরটি চাউর হওয়ার পর কামান দাগতে শুরু করেছে বিরোধীরা। শনিবার কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ‘একতরফাভাবে’ ফর্ম ৬ পরিবর্তন করে জেনেশুনে আইন ও সাংবিধানিক রীতি লঙ্ঘন করেছেন। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট যেন বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেয় এবং কমিশনকে জবাবদিহি করার আওতায় আনে। ‘এক্স’-এ এক পোস্টে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদে বহাল থাকা ভারতের জনগণের প্রতি এক অপমান। তিনি আরও জানিয়েছেন, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
শুক্রবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের এমন জটজলদি পদক্ষেপকে আতঙ্কের পরিনাম বলে অবহিত করেছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, “ফর্ম ৬-এ সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক পরিবর্তন এনে তরুণ ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা কার্যত অসম্ভব করে তুলেছিলেন। এতে একটি নতুন বাধ্যতামূলক অংশ যুক্ত করা হয়েছিল যেখানে জানতে চাওয়া হয় যে আবেদনকারীর বাবা-মা বা দাদা-দাদি পূর্ববর্তী এসআইআর-এর তালিকায় ছিলেন কি না—যা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের প্রথম ভোটারদের জন্য একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, “এই পরিবর্তনটি সম্পূর্ণ বেআইনি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরুর দিকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গোপনে অনলাইন ফর্মটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। ফর্ম ৬ সংশোধনের কোনো ক্ষমতাই ইলেকশন কমিশনের নেই।” তিনি জানিয়েছেন, “জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী এই ক্ষমতা কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই রয়েছে। এটি স্পষ্টতই নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার বা সীমা অতিক্রমের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন জয়রাম রমেশ।
শুধু এই দুই ক্ষেত্রে নয়, আরও একটি আইনি লঙ্ঘনের বিষয়ও রয়েছে বলে জানিয়েছেন রমেশ, তা হল- ‘রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস ১৯৬০’ বা ‘ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০’-এর অধীনে এই ফর্মটি যে বিধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাতে কোনো সংশোধনী না এনেই ফর্মটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, “এই কাজটি কেবল কেন্দ্রীয় সরকারই করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সংসদকে যথাযথভাবে অবহিত করা আবশ্যক। আইন দ্বারা নির্ধারিত একটি বিধিবদ্ধ ফর্মকে একতরফাভাবে পরিবর্তন করেছিলেন সিইসি জ্ঞানেশ—আর তা করা হয়েছিল আতঙ্কিত প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে”।
রমেশের দাবি, নির্বাচন কমিশনার এই “বেআইনি” পরিবর্তনটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে “তরুণ ও প্রথম ভোটাররা কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। এর ফলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কেবল সাংবিধানিক প্রথা ও রীতিনীতিই ভঙ্গ করেননি, বরং সংসদে পাস করা আইনও জেনে-বুঝে লঙ্ঘন করেছেন”। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, “আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা একজন প্রমাণিত আইন-লঙ্ঘনকারী—ভারতীয় গণতন্ত্রের অধঃপতন ঘটাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের উচিত অবিলম্বে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি নজরে নেওয়া এবং তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা।” তাঁর দাবি, এর মূল্য ঘোঁচাতে জ্ঞানেশ কুমারের উচিত পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হয়ে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা। তাহলেই তরুণ সমাজ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবে।”

এক্স-এ জয়রাম রমেশের পোস্ট
নির্বাচন কমিশন নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্তির ফর্মে একটি অতিরিক্ত ঘোষণা যুক্ত করার ফলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত জুন মাসে বিহারে ‘এসআইআর কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ১৮-২৮ বছর বয়সী প্রায় ২.৩৭ কোটি ভোটারকে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
অনলাইন ফর্মে এই পরিবর্তনের ফলে, ভোটার তালিকায় নাম বজায় রাখার জন্য পুরোনো ভোটারদের যেমন নতুন করে তাঁদের বাবা-মায়ের বিস্তারিত তথ্য SIR-এর দিতে হয়েছে, তেমনই যারা নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চাইছেন, তাঁদেরও এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা জারি করে নতুন ভোটারদের জন্য ‘ফর্ম ৬’ পূরণের সময় বাবা-মায়ের SIR সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্দেশিকার মাধ্যমেই ওই ঘোষণাটি যুক্ত করা হয়েছে এবং ‘ফর্ম ৬’-এর মূল কাঠামোয় কোনো সংশোধনী আনা হয়নি। কোনো ব্যক্তি যদি অনলাইনে ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করেন, তবে ওই ঘোষণাটি পূরণ না করা পর্যন্ত তিনি পরবর্তী ধাপে এগোতে পারবেন না।