ওঙ্কার ডেস্ক: মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবৎ এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিজেপি কতৃক বহুবার প্রচারিত “আচ্ছে দিন” শুধুমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষমতায় আসার ফল নয়, বরং তার পেছনে রয়েছে আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রম, আদর্শগত লড়াই এবং সামাজিক ভিত্তি তৈরির কাজ।
শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাগবৎ বলেন, সঙ্ঘ গত কয়েক দশক ধরে নীরবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজগঠন, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং জাতীয়তাবাদী ভাবনার বিস্তারে কাজ করে এসেছে। এই ধারাবাহিক কাজের ফলেই একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার সুফল রাজনৈতিক দলগুলি পেয়েছে। তাঁর কথায়, বিজেপির রাজনৈতিক উত্থান এবং নির্বাচনী সাফল্য মূলত সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে, যা আরএসএস বহু বছর ধরে গড়ে তুলেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, “আচ্ছে দিন” কোনও একটি সরকারের কৃতিত্ব নয়, বরং তা স্বেচ্ছাসেবকদের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আদর্শের প্রতি অটল বিশ্বাসের ফল। সমাজের নানাস্তরে সংঘের কর্মীরা যে কাজ করেছেন, সেটাই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে পরিবর্তন এনেছে। বিজেপির সাফল্যকে তিনি সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
ভাগবৎ রাম মন্দির আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আরএসএস-এর সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও মানসিক ঐক্য গড়ে উঠেছে, যা পরে রাজনৈতিক সমর্থনে পরিণত হয়েছে। তিনি বোঝাতে চান, আদর্শ ও সংগঠনের শক্তিই শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।
এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে আরএসএস নিজেদের প্রভাব ও ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাইছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি বিজেপি ও আরএসএস-এর পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে, যেখানে রাজনৈতিক দলটির পেছনে আদর্শগতভাবে সংঘই প্রধান চালিকাশক্তি। মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য আরএসএস-বিজেপি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনমতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
