ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর আয়োজনে বিশাখাপত্তনমে শুরু হতে চলেছে আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ (আইএফআর) এবং বহুজাতিক নৌমহড়া ‘মিলান’। সেই উপলক্ষে ইতিমধ্যেই একে একে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধজাহাজ এসে পৌঁছেছে পূর্ব উপকূলের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে। ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং বাংলাদেশ এই তিন দেশের নৌবাহিনীর জাহাজ যোগ দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে।
ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘কেআরআই বুঙ্গ টোমো-৩৫৭’, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর করভেট ‘আল এমারাত’ এবং বাংলাদেশের ফ্রিগেট ‘বিএনএস সমুদ্র অভিযান’ বিশাখাপত্তনম বন্দরে পৌঁছেছে ইতিমধ্যেই। ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাহাজগুলিকে স্বাগত জানানো হয়। বিভিন্ন দেশের পতাকায় সজ্জিত যুদ্ধজাহাজে এখন উৎসবের আবহ পূর্ব উপকূলে।
আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ এমন একটি অনুষ্ঠান, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান বা সর্বাধিনায়কের উপস্থিতিতে নৌবাহিনীর শক্তি, সক্ষমতা ও সমন্বয়ের প্রদর্শন করা হয়। এর পাশাপাশি ‘মিলান’ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে বহু দেশ। ১৯৯৫ সালে সূচনা হওয়া এই মহড়া আজ আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কূটনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে মহড়ার ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হল সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং যৌথ অভিযানে সক্ষমতা বাড়ানো। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে এই ধরনের বহুপাক্ষিক মহড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
বিশাখাপত্তনমে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নৌ-কৌশল, সমন্বিত অভিযান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুশীলন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলির নৌসেনাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির কর্মসূচিও রয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মহড়া কেবল সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শনী নয়, বরং বন্ধুত্ব, আস্থা এবং সমুদ্রপথে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতীক। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বার্তা দিতেই এই বৃহৎ আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
