ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েকদিনের টানাপোড়েনের পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটেছে। আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা হতেই প্রশাসন দ্রুত এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে। রবিবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর চত্বর এবং তার আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়। আন্দোলনের জন্য তৈরি হওয়া অস্থায়ী মঞ্চ, ব্যারিকেড, তাঁবু ও অন্যান্য অবকাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়। পাশাপাশি এলাকাজুড়ে মোতায়েন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে।
আন্দোলন শেষ হওয়ার পর রাজধানীর জনজীবনেও স্বস্তি ফিরেছে। যেসব এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেখানে ফের সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়েছে। একইসঙ্গে দিল্লি মেট্রোর যেসব স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলিও সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে রাজধানীতে।
গত কয়েকদিন ধরে যন্তর মন্তরে এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি ছিল। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়েছিল। যান চলাচলে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়। এর ফলে অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনলাইন লেনদেন, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবাও কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়েছিল।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস এবং অনান্য পরীক্ষায় অনিয়ম এবং কাঠামোগত ত্রুটির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহিতার দাবি তলে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই দাবিকে কেন্দ্র সরকার গুরুত্ব না দেওয়ায় আন্দোলোন শুরু করে এই আরশোলারা। পরে এই আন্দোলনের অন্যত্তম মুখ হয়ে ওঠেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সমাজসেবী সোনাম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন অনশনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পরই তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তাদের দাবি, আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির বাস্তবায়নের উপর তারা নজর রাখবেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার কথাও জানিয়েছেন আন্দোলনের নেতৃত্ব।
আন্দোলন শেষ হওয়ার পর প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিক পরিষেবাগুলি নির্বিঘ্নভাবে চালু রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশা, আন্দোলন পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম আর কোনও বাধার সম্মুখীন হবে না।