ওঙ্কার ডেস্ক: দীপাবলির আতসবাজি আর উৎসবের ধোঁয়ায় রাজধানীর আকাশ ঢেকে গিয়েছে ঘন ধোঁয়ায়। সোমবার বিকেল পর্যন্ত দিল্লির গড় বায়ু মান সূচক ছিল প্রায় ৩৪৫, যা ‘খুবই খারাপ’ থেকে ‘গুরুতর’ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। মোট ৩৮টি মনিটরিং কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টি এলাকাই লাল জোনে। দ্বারকা, অশোক বিহার, ওয়াজিরপুর, আনন্দ বিহার, সর্বত্রই বায়ু দূষণের মাত্রা ছুঁয়েছে আকাশ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দিল্লিতে কেবলমাত্র ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ বা কম দূষণকারী বাজি ব্যবহার করার অনুমতি ছিল, তাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সকাল ৬টা থেকে ৭টা ও রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম ভেঙে অজস্র বাজির আওয়াজ ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী। বাতাসে মিলেমিশে থাকা পার্টিকুলেট ম্যাটার, নাইট্রোজেন ও সালফার যৌগের পরিমাণ হু হু করে বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, এই ধোঁয়া কয়েক ঘণ্টার নয়, এর প্রভাব টিকে থাকবে পরবর্তী কয়েকদিন ধরে, বিশেষত শ্বাসকষ্ট ও হৃৎপিণ্ডের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
অন্যদিকে, কলকাতার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটা স্বস্তিদায়ক, যদিও সম্পূর্ণ নিস্তরঙ্গ নয়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশে শহরে আতসবাজি পোড়ানোর সময় সীমা ছিল রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। উচ্চশব্দের বাজি ও নিষিদ্ধ আতসবাজির বিক্রি ও ব্যবহারেও কড়া নজরদারি চালানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তবুও, বেশ কিছু এলাকায় রাত ১০টার পরও বাজির শব্দ শোনা গিয়েছে।
দূষণ পরিমাপক যন্ত্র অনুযায়ী, রাত ৯টার সময় দক্ষিণ কলকাতার বংশদ্রোণিতে গড় বায়ু মান সূচক ছিল ৮৫, বিধাননগরে ৭৭, ফোর্ট উইলিয়ামে ৭৩, যাদবপুরে ১০৬, আর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আশপাশে ছিল ১৪০। রাত ১১টার মধ্যে বংশদ্রোণিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪, বিধাননগরে ৯৮, ফোর্ট উইলিয়ামে ৭৬, যাদবপুরে ১২৪, এবং ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে ১৫৩।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতায় এই বছর দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও অনেকেই এখনো বুঝতে পারছেন না এই দূষণের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি। শহরের বাতাসে উপস্থিত সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও রাসায়নিক উপাদানগুলো মানুষের ফুসফুসে জমে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
দিল্লি ও কলকাতার এই পার্থক্য মূলত শহরের ভৌগোলিক অবস্থা ও বাতাসের গতি-প্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে। দিল্লিতে বাতাসের গতি কমে গেলে ধোঁয়া ও কণাগুলি আটকে যায় নিচের স্তরে, ফলে ঘন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, কলকাতার উপকূলীয় অবস্থান ও তুলনামূলক বেশি বাতাসের চলাচলের কারণে দূষণ কিছুটা হলেও ছড়িয়ে যায়।
