ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য বড়সড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করল দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার সকালে মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আচমকাই আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভবনের একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যায়। ভবনের ভিতরে থাকা বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে জানালা ও বারান্দায় এসে সাহায্যের আবেদন জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে অনেকেই নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়। উদ্ধারকারীরা ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে বহু মানুষকে নিরাপদে বের করে আনেন। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘনার খবর সামনে আসতেই দিল্লি সরকারের শীর্ষস্তরে তৎপরতা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা গভীর শোকপ্রকাশ করে জানান, নিহতদের পরিবার এই কঠিন সময়ে একা নয় এবং সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে তিনি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানান।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ প্রশাসন। ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।