ওঙ্কার ডেস্ক: চাকরি দেওয়ার নামে অভিনব প্রতারণা! নকলনবিশ ভাড়া করে কখনও মুখ্যমন্ত্রী কখনও মুখ্যসচিবের কন্ঠ নকল করে প্রতারণার ছক কষত অভিযুক্ত। আর তার জেরে গ্রেফতার অসমের এক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক। অভিযোগ, ধেমাজি জেলার ডেভেলপমেন্ট কমিশনার দেবেশ্বর বরাই এই কাণ্ডের মূল চক্রী। পুলিশ সূত্রের দাবি, নিজের কথাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে এক নকলনবিশকে ভাড়া করেছিলেন দেবেশ্বর। ওই ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কণ্ঠ নকল করতেন।
অভিযোগ, চাকরি বা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হত। প্রতারিত ব্যক্তিদের বিশ্বাস করাতেই ব্যবহার করা হত ওই নকল কণ্ঠ। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবেশ্বর নিজের প্রভাব নিয়ে বড় বড় দাবি করতেন। তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে পরিচয় দিতেন তিনি। শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন। রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করতেন দেবেশ্বর। প্রয়োজনে ফোনে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিতেন। এরপরই শুরু হত প্রতারণার আসল পর্ব। ভাড়া করা নকলনবিশকে ফোনে হাজির করতেন তিনি। কখনও সেই ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে কথা বলতেন। কখনও মুখ্যসচিবের পরিচয় দিতেন। আবার কখনও অন্য কোনও সরকারি কর্তার ভূমিকায় কথা বলতেন। এই পদ্ধতিতেই একাধিক ব্যক্তির আস্থা অর্জন করেছিলেন বলে অভিযোগ।
এক চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে দেবেশ্বরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সম্পত্তির বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতেই সামনে আসে প্রতারণার অন্য একটি অভিযোগ। এরপর তদন্তকারীরা নকলনবিশকে ব্যবহার করে প্রতারণার পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য পান। পরবর্তীতে দেবেশ্বরকে গ্রেফতার করা হয়।