ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে তিন নাবালিকার আকস্মিক আত্মহত্যায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে গোটা দেশ। একই পরিবারের তিন কিশোরী বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি আটপাতার ডায়েরি ঘিরে নতুন করে উঠে এসেছে তাদের মানসিক অবস্থার করুণ চিত্র। পুলিশ জানিয়েছে, ডায়েরির পাতায় পাতায় লুকিয়ে ছিল তাদের একাকিত্ব, হতাশা এবং বাস্তব জীবন থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার যন্ত্রণা।
ঘটনাটি ঘটে একটি আবাসনের নবম তলায়। রাতের দিকে হঠাৎ তিন বোন একসঙ্গে নিচে ঝাঁপ দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন জনের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং ঘরের ভেতর থেকে একটি ছোট ডায়েরি উদ্ধার করে, যেটিই এখন তদন্তের মূল সূত্র হয়ে উঠেছে।
ডায়েরির লেখা থেকে স্পষ্ট, তিন বোনের জীবনযাপন অনেকটাই ঘিরে ছিল কোরিয়ান সংস্কৃতি, কে-পপ গান, কোরিয়ান ধারাবাহিক ও বিদেশি বিনোদন জগতকে কেন্দ্র করে। তারা নিজেদের পরিচয়, পছন্দ-অপছন্দ, এমনকি স্বপ্নকেও সেই সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। বাস্তব জীবনের তুলনায় ভার্চুয়াল জগতই ছিল তাদের কাছে বেশি প্রিয়। পরিবার বা আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার কথাও তারা লিখেছে।
ডায়েরির একাধিক জায়গায় তারা উল্লেখ করেছে, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা পেলে তারা গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়ত। প্রিয় অনুষ্ঠান বা গান থেকে দূরে সরে যাওয়াকে তারা নিজের অস্তিত্ব হারানোর মতো অনুভব করত। তারা লিখেছে, কেউ তাদের মনের কথা বোঝে না, তাদের পছন্দকে গুরুত্ব দেয় না। এই না-বোঝার বেদনাই ধীরে ধীরে তাদের ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছিল।
কিছু অংশে পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কথা থাকলেও, তার চেয়েও বেশি টান ছিল বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি এমন কথাও উঠে এসেছে লেখায়। তারা অন্য দেশে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখত। সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার হতাশা এবং নিজের চারপাশের বাস্তবতাকে মেনে নিতে না পারার কষ্ট বারবার ফুটে উঠেছে ডায়েরির পাতায়।
ডায়েরির শেষ দিকে ক্ষমা চেয়ে কয়েকটি লাইন লেখা ছিল, যেখানে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং অনুরোধ করেছে পুরো লেখাটি পড়তে। সেই কথাগুলো পড়ে পরিবারের সদস্যরা ও তদন্তকারীরা আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা, বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব এমন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
