ওঙ্কার ডেস্ক: গোয়ার আরপোরার একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৭ তারিখ গভীর রাতে চলা একটি পার্টির সময়। ক্লাবের ভেতরে উপস্থিত অতিথি এবং কর্মীদের অনেকেই দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ পাননি। আগুন লাগার পরে ক্লাবের ভেতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ভেতর থেকে একাধিক দগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ওই নাইটক্লাবের কর্মী, কয়েকজন পর্যটকও ছিলেন তালিকায়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। যাদের মধ্যে একজন বাঙালি বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে দমকল পৌঁছানোর পর গভীর রাতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ক্লাবের রান্নাঘর, বেসমেন্ট ও ভেতরের বিভিন্ন ঘর থেকে দেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, ধোঁয়া এতটাই ঘন ছিল যে ভেতরের কেউ দিশা বুঝতে পারেনি। অনেকেই জরুরি প্রস্থান পথের অভাবে ভেতরে আটকে পড়েন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ক্লাবে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র কার্যকর ছিল না এবং জরুরি বহির্গমন পথও ছিল সীমিত। অভিযোগ ওঠে যে ক্লাবটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন যথাযথভাবে নবায়ন করা হয়নি। আরও জানা যায় যে স্থানীয় প্রশাসন পূর্বে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নজরদারি করেনি।
ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসন সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়। ক্লাবের মালিক সৌরভ লুথ্রা এবং গৌরব লুথ্রার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভেন্যুর কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন রাজীব মোদক, বিবেক সিং, বার ম্যানেজার রাজভির সিঙ্ঘানিয়া, এবং গেট ম্যানেজার প্রিয়ানশু ঠাকুর এবং আজ সকালে দিল্লি থেকে নাইটক্লাবের অপারেশন ম্যানেজার ভারত কোহলিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের কর্মকর্তা জানান যে ক্লাবের প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরেই অবহেলা ছিল এবং বৃহৎ সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব তারা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
এছাড়া লাইসেন্স ইস্যু সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বে থাকা এক প্রশাসনিক প্রতিনিধিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে, কারণ অতীতে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। একইসঙ্গে সরকারি তরফে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গোয়ার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ব্যবসায়িক বিনোদনস্থানের নিরাপত্তা নিয়ম নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে নিহত পরিবারকে ৫ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ক্লাব কর্তৃপক্ষ নয়, স্থানীয় প্রশাসনেরও নজরদারি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল। পর্যটন-নিবিড় এই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের মানুষ আসেন। সেই পরিস্থিতিতে নিয়মিত নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা গোটা ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশ্ন তুলছে।
গোয়ার সাধারণ মানুষ, পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তিরা এবং মৃতদের পরিবার এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকা শোকাচ্ছন্ন। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবটি বন্ধ থাকবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা হবে।
