ওঙ্কার ডেস্ক: সরকারি চাকরির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু একবারও সফল না হওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে চরম পদক্ষেপ নিলেন বিটেক গোল্ড মেডেলিস্ট যুবক। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী ওই যুবক ২০২৪ সালে সে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। একটি সুইসাইড নোটও রেখে গেছেন তিনি, যাতে বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ওই যুবক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম আনন্দ কুমার। কানপুরের বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, প্রাণবীর সিং ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি- থেকে বিটেক (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) কোর্সে টপার হয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল আনন্দ কুমারকে সোনার মেডেল দিয়েছিলেন। সোমবার গোবিন্দ নগরে বাড়িতে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। যে সময় এই ঘটনা ঘটে সেই সময় তাঁর পরিবারের লোকজন আনন্দের দাদার বিয়ের জন্য পাকা কথা বলার জন্য বিহারে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর পরিবারের গৃহ সহায়িকা প্রতিবেশীদের খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশও। তদন্তকারীরা ঘর থেকে হাতে লেখা পাঁচ লাইনের একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছেন। তাতে ইংরেজিতে লেখা, ‘দুঃখিত বাবা, সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য আমি প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ তাঁর বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক হওয়ার পর ‘পাওয়ার গ্রিড’-এ এক বছরের শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছিলেন আনন্দ। এ ছাড়া রেল, স্টাফ সিলেকশন কমিশন, ব্যাংক এবং শিক্ষা দফতরে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। এর ফলে গত কয়েক মাস ধরে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন আনন্দ।