ওঙ্কার ডেস্ক: অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের পর ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরতে চলেছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রবিবার গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এনডিএ পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তাঁকে জোটের নেতা নির্বাচিত করা হয়। এর ফলে দ্বিতীয়বারের জন্য অসমের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চলেছেন তিনি। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া কার্যত নিশ্চিত ছিল, তবে এদিনের বৈঠকের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ে।
বৈঠকে বিজেপি ও শরিক দলগুলির বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে হিমন্তের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা জানিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাঁকেই জোটের মুখ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের পর তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানও বড় আকারে আয়োজন করা হতে পারে।
দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, অসমবাসীর এই বিপুল সমর্থন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং বিজেপির নীতির উপর আস্থার প্রতিফলন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দেন যে আগামী দিনে পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে আরও জোর দেওয়া হবে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি অসমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করেছে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, কৌশলী রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনসংযোগ এই জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধী কংগ্রেস এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলিকে পিছনে ফেলে বিজেপি যে ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে গেরুয়া শিবিরের শক্তি আরও বাড়াল।
নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভায় কারা জায়গা পাবেন, কোন কোন ক্ষেত্রে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন আসতে পারে এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের রূপরেখা কী হবে, তা নিয়েই এখন অসমের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের আশা, হিমন্ত বিশ্বশর্মার দ্বিতীয় দফার সরকার রাজ্যকে আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে দেশের মোট চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সব রাজ্যেই ফলপ্রকাশ হয়েছে ৪ মে। বিপুল পরিমাণে আসন সংখ্যায় জিতে বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে এনডিএ সংখ্যাগরিষ্টতায় জিতেছে। সেখানে পঞ্চমবারের মত মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন রঙ্গস্বামী। দক্ষিণে তামিলনাড়ুতে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নবনির্মিত রাজনৈতিক দল টিভিকে সংখ্যাগড়িষ্টতায় জিতলেও ছুঁতে পারেনি ম্যাজিক নম্বর। দীর্ঘ চেষ্টার পর অনান্য দলের সমর্থনে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন টিভিকে সুপ্রিমো সি জোশেপ বিজয়। কেরলমে ইউডিকে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী ঘোষনা করেনি।