ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের শুরু থেকেই রাজ্যে অশান্তি তুঙ্গে। এর মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য এবং রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুন। ফলাফল ঘোষণার দুইদিন পরই মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয় চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরার উপর। এই ভয়াবহ খুনের পর জোরকদমে তদন্তে নেমে পরে পুলিশ। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী পলাতক গাড়ির চালকেরা পালিয়ে যাওয়ার সময় টোল প্লাজায় অনলাইন পেমেন্ট করেছিল। সেই সুত্র ধরেই গাড়িটিকে চিহ্নিত করেছে তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে গাড়িটি ঝাড়খন্ডের।
রাজ্যের নব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তদন্ত ক্রমশ জটিল ও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে সাধারণ হামলা বলে মনে হলেও, তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে সুপরিকল্পিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এর পিছনে থাকতে পারে ভাড়াটে খুনিদের চক্র।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগে থেকেই চন্দ্রনাথ রথের চলাফেরা, দৈনন্দিন কর্মসূচি এবং অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। হামলাকারীরা তাঁর গতিবিধির উপর নজর রেখেছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ে হামলা চালানোর জন্য পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছেন, এই হামলার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারে। সন্দেহ করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্য থেকেও অপরাধীদের আনা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরবাইক, গাড়ি এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, হামলাকারীরা ভুয়ো নম্বরপ্লেট ব্যবহার করেছিল এবং পালানোর জন্য বিকল্প রুটও আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলির ধরন এবং ঘটনাস্থলের অন্যান্য নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সাজানো এবং এর পিছনে বড়সড় আর্থিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
চন্দ্রনাথ রথের পরিবার জানিয়েছে, তিনি আগেও একাধিকবার হুমকি পেয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া, ফোনকল এবং ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই হুমকির সূত্রও এখন তদন্তের আওতায় এসেছে। এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অপরাধচক্রের বিস্তার এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে। তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মূল ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত করা এবং পুরো নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস করা। চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু ঘিরে যে জটিল চক্রান্তের ছবি উঠে আসছে, তা স্পষ্ট করছে এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি খুন নয়, বরং বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।