ওঙ্কার ডেস্ক: রাজনীতিতে কি না হয়। অস্বাভাবিক বলে কিছু নেই রাজনীতিতে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের পতনের পর থেকে বিজেপি সরকারের উত্থান। সবকিছুতেই আছে লোমহর্ষক কাহিনী। ২৫ শে বৈশাখ নতুন বিজেপি সরকারের ছিল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে বাংলায় স্থাপিত হল ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। অর্থাৎ কেন্দ্র রাজ্য পরিচালনা করছে একই সরকার। সেই সময়ে ভুতপূর্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যাইয়ের বাড়িতে পালিত হচ্ছিল রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ও কর্মীরা। সেই মঞ্চ থেকে তিনি বিজেপির বিরোধিতা করতে বিজেপি বিরোধী সকল শক্তি গুলিকে আহ্বান জানান। সেই ঘটনার পাল্টা উত্তর দেন সিপিআইএম এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মহম্মদ সেলিম ও সিপিএম, পশ্চিমবঙ্গের তরফে ফেসবুক পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত, সাম্প্রদায়িক পরিচয় আছে, এমন কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’ এই পোস্ট শেয়ার করে সহমত পোষণ করেছেন সিপিএমের তরুণ ব্রিগেডও। শুধু তাই নয়, তৃণমূলনেত্রীর এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন টিএমপিসি নেতা সুপ্রিয় চন্দও। বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে বামেদের সঙ্গে নেওয়ার এই আহ্বানের বিরোধিতা করেছেন তিনি।
এমনকি কালীঘাটে মমতার বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠানেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলনেত্রীর। তিনি বলেন, “সব ডেকরেটরকে মানা করে দিয়েছে। যাতে কেউ কোনও চৌকি না দেয়, প্যান্ডেল না করে। এগুলো যা দেখছেন, সব আমরা নিজেরা করেছি। সকালে দু’টো চৌকি কেনা হয়েছে। মাইকের বক্সও আমরা নিজেরাই অ্যারেঞ্জ করে নিয়েছি। মমতার অভিযোগ, বাইরের ‘গুন্ডা’ নিয়ে এসে পশ্চিমবাংলার মানুষের উপরে অত্যাচার করাহচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাড়ির সামনেও সকাল বেলা যা-তা করেছে। অভিষেকের বাড়ির সামনেও ধাক্কা সারা ক্ষণ চলছে। এমনকী ওর বাচ্চারা আছে, সেখানে ধাক্কা-টাক্কা মারছে। বলছে, দরজা খোলো, মেয়েকে বার করে দাও। এমনকি গৃহশিক্ষককেও ওই বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী।নির্বাচনের ফলঘোষণার পর থেকে তৃণমূলের কর্মীদের উপরে ‘লাগামহীন, বল্গাহীন সন্ত্রাস চলছে’ বলে অভিযোগ মমতার। তিনি বলেন, অনেকের বাড়ির সামনেই হুলিগানিজম করছে। অনেক বেনোজল ঢুকে গিয়েছে। পুলিশ পুরো চুপ। কালীঘাটে মমতার বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি ইন্দ্রনীল সেন। তার এলাকাতেও গোলমাল চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত, অত্যাচারিত তৃণমূলকর্মীদের সাহায্যের জন্য তহবিল গড়ছে তৃণমূল। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, এই তহবিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে আক্রান্তদের সাহায্য করা হবে। এ ব্যাপারে আইনি বিষয় দেখবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।