ওঙ্কার ডেস্ক: গুজরাতের এক বেসরকারি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের গোপনীয় ফুটেজ টেলিগ্রামে চড়া দামে বিক্রি করছিল একদল দুষ্কৃতিরা। টাইমস্ অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রসূতি বিভাগের ফুটেজ বিক্রি করছিল হ্যাকারস্-এর দল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই দুষ্কৃতিদের গ্রেফতার করেছিল গুজরাত পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের জেরেই গুজরাতের ঐ বেসরকারি হাসপাতালের নাম উঠে আসে। প্রসুতি বিভাগের গোপনীয় জায়গার সিসিটিভি কেন লাগানো হয়েছিল সে নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
সুত্রের খবর, অ্যাডমিন১২৩ নামের একটি সাইবার দুষ্কৃতি সংস্থা এই সব তথ্য, ফুটেজ পাচার করত আন্তর্জাতিক পর্নিগ্রাফি বাজারে। পুলিশ জানিয়েছে হাসপাতালে সিসিটিভি লাগানোর সময় থেকেই একই আইডি পাসওয়ার্ড রাখায় হ্যাকারদের সেই সিস্টেম ভেঙ্গে ভিডিও চুরি করতে অসুবিধা হয়নি। পঞ্চাস হাজারেরও বেশি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল ঐ টেলিগ্রাম গ্রুপে। সেই সমস্ত ভিডিও বিক্রি হত নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে। গত জুন মাস পর্যন্ত ঐ ভিডিও টেলিগ্রাম গ্রুপে ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই গ্রুপে গুজরাতের ঐ হাসপাতালের পাশাপাশি নানা বিদ্যালয়, শমিং মলের ড্রেসিং রুম থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপ্রতিকর স্থানের ভিডিও বিক্রি হত। চ্যাট বটের মধ্যমে সিস্টেম হ্যাক কর আহত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা একান্ত জরুরি। হাসপাতালগুলিকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। পাসওয়ার্ড সুরক্ষা, এনক্রিপশন ও ডেটা প্রটেকশন ব্যবস্থার কঠোরতা বাড়ানোই এখন একমাত্র উপায়। রাজকোট প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালের সিসিটিভি সিস্টেমের অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্য বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র গুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা অবিলম্বে সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা আপডেট করে। এই ঘটনার পর প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বেড়েছে কীভাবে প্রযুক্তির যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়, তার কার্যকর উত্তর দিতে হবে এখনই।
