ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত আফ্রিকায় চলমান ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলায় সহায়তা জোরদার করতে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি)-এর কাছে দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসা ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। এই ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং পুষ্টিকর খাদ্য-সহায়তা সামগ্রী। মোট ৪৩ টনের এই চিকিৎসা সহায়তা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, ভারত আফ্রিকা সিডিসির জন্য দ্বিতীয় দফার চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সুরক্ষা সামগ্রী, রোগ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম, ওষুধ এবং পুষ্টি-সহায়ক উপকরণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ৪৩ টনের ত্রাণ আফ্রিকার জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করবে এবং ইবোলা প্রতিরোধ ও মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াবে। এর আগে ২৪ মে ভারত প্রথম দফায় জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী এবং সুরক্ষা কিট আফ্রিকা সিডিসির কাছে পাঠিয়েছিল। সেই সময়ও ভারত আফ্রিকার দেশগুলিকে উদীয়মান ইবোলা স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
গত ২৯ মে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ভারত থেকে পাঠানো চিকিৎসা সামগ্রী উগান্ডায় অবস্থিত আফ্রিকা সিডিসির কার্যালয়ে ভারতের হাইকমিশনার উপেন্দ্র সিং রাওয়াত আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশগুলিকে এবং আফ্রিকা সিডিসিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, ৩১ মে আফ্রিকা সিডিসি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে ওঠা বান্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতের জরুরি চিকিৎসা সহায়তাকে স্বাগত জানায়। সংস্থাটি এই জনস্বাস্থ্য সংকটের সময় ভারতের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংকটে ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ভারত আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ১৭ মে অঞ্চলটির বর্তমান ইবোলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ, দূষিত বস্তু বা আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে ছড়ায়। জ্বর, বমি, ডায়রিয়া থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ পর্যন্ত এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।