ওঙ্কার ডেস্ক: জাতীয় পরিবেশ দিবসের আগে কুণো জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলল জঙ্গলের ভূতের। জঙ্গলে বসানো ক্যামেরা ট্র্যাপে বন্দি হয়েছে এই চিতা-বিড়ালের ছবি। কুনোর জঙ্গলে এর ফিরে আসা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ওখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আবার আগের মতো সুস্থ ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই ভূতের বৈজ্ঞানিক নাম ‘ক্যারাকাল’। বন দফতরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার সময় জঙ্গলে বসানো সিসিটিভি বা ক্যামেরা ট্র্যাপে এই ক্যারাকালের ছবি ধরা পড়ে। লম্বা কালো লোমযুক্ত কান, সুগঠিত শরীর আর শিকার ধরার অসাধারণ দক্ষতার জন্য এই বন্যবিড়াল সহজেই নজর কাড়ে। একসময় পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এদের দেখা মিলত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গল ও তৃণভূমি ধ্বংস হওয়ার কারণে এরা আজ ভারতের অন্যতম বিপন্ন এবং প্রায় বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। বহু বছর পর কুনোয় এদের দেখা মেলা তাই এক ঐতিহাসিক ঘটনা। অতন্ত ধূর্ত প্রকৃতির এই বিড়াল মানুষের ধারে কাছে আসে না। ফলে খালি চোখে দেখা যায় না। ট্র্যাপ ক্যামেরাতে ধরা পড়ে এই বিরল দৃশ্য। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারাকালের মতো একটি প্রথম সারির শিকারী প্রাণীর উপস্থিতি পরিষ্কার বুঝিয়ে দেয় যে কুনোর জঙ্গলে তাদের পর্যাপ্ত খাবার (শিকার) রয়েছে এবং ওখানকার বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম একদম নিখুঁতভাবে কাজ করছে। আফ্রিকান চিতা আসার পর থেকেই কুনো জাতীয় উদ্যান আন্তর্জাতিক স্তরে চর্চায় রয়েছে, আর এবার ক্যারাকালের এই আগমন সেই মুকুটে নতুন পালক জুড়ল।
কুনো ছাড়াও ইদানীং মধ্যপ্রদেশের ‘গান্ধী সাগর অভয়ারণ্য’-তেও এই ক্যারাকালের দেখা মিলেছে। বনকর্তাদের আশা, রাজ্যের শুকনো ও পাথুরে জঙ্গলগুলো হয়তো এখনও এই বিরল প্রাণীদের টিকিয়ে রেখেছে। ভারতের এই অত্যন্ত বিপন্ন বন্যবিড়ালকে বাঁচাতে এবং তাদের বাসস্থান সুরক্ষিত করতে এখন দেশজুড়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।