ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত-মার্কিন বানিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত সরকারি বিবৃতি জারি করতে পারে দুই দেশ। যেটি খুব সম্ভবত আগামী সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের তরফ থেকে যৌথ ভাবে প্রকাশ করা হবে, কেন্দ্রীয় বানিজ্য মন্ত্রী পিয়ূষ গোয়েল সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান। উল্লেখ্য সরকারি বিবৃতিতে বানিজ্য চুক্তির পরিকাঠামো, তথ্য বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সরকারি বিবৃতি অনুসারে নয়া দিল্লি এবং ওয়াশিংটন সরকারি ভাবে এক্সিকিউটিভ অর্ডার জারি করতে পারে, যার কারণে ভারতীয় পন্যের উপর আরপিত ৫০% শুল্কের পরিমাণ নেমে ১৮% করা হবে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক আলোচনা ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক ও ধারাবাহিক কথোপকথনের পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে, যার ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে চলেছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারনে ২৫% শুল্ক এবং জরিমানা হিসাবে আরও ২৫% মিলিয়ে মোট ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল ভারতীয় পন্যের উপর। দুই দেষের এই দ্বিপাক্ষিক বানিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা নেমে আসবে মোট ১৮%-এ। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে। এর ফলে টেক্সটাইল, চর্মজাত দ্রব্য, চিকিৎসাখাতে লাভবান হবে বলে আশা করছে বিশেসজ্ঞরা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের বানিজ্য মন্ত্রী পিয়ুষ গোয়েল জানান, “খুব শিগগিরই দুই দেশের তরফে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর করবে”। তিনি আরও বলেন, “একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ও আইনি কাঠামোর বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু শুল্ক হ্রাস নয়, বরং বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, জ্বালানি আমদানি এবং বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথও প্রশস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে”।
শিল্পমহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি লাভবান করবে ভারতের শ্রমনির্ভর ও রপ্তানিনির্ভর শিল্পগুলিকে। বস্ত্র, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, রত্ন ও গয়না, প্রকৌশল সামগ্রী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পণ্য এতদিন উচ্চ শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিল। শুল্ক কমে গেলে এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হবে, ফলে আমেরিকার ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও বাড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় বাজারে সংবেদনশীল কিছু খাতে দেশীয় শিল্প ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
