ওঙ্কার ডেস্ক: গোটা এলাকায় তিনি পরিচিত বই বিক্রেতা হিসাবে। আর রাত হলেই তিনি নেমে জেতেন বে আইনি অস্ত্র কারবারিতে। চাঞ্চল্য কর এই ঘটনাটি ঘটেছে, কর্ণাটকে। একটি খুনের সূত্র ধরে তদন্তে নামতেই বেআইনি অস্ত্রের বড় চক্রের হদিস পান তদন্তকারীরা। আর সেই সূত্রে বই বিক্রেতা বিশ্বনাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেখানে খানাপুর তালুকের কাটাগল গ্রামে বইয়ের দোকান রয়েছে বিশ্বনাথের। অভিযোগ, বই বিক্রির আড়ালে তিনি বেআইনি অস্ত্র পাচার করতেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। একটি খুনের মামলার তদন্ত চলছিল। সেই সূত্র ধরেই সম্প্রতি কাটাগলি গ্রামেরই এক ব্যক্তি মারুতি সুতারের বাড়ি থেকে প্রচুর দেশি পিস্তল এবং কার্তুজ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে বেলগাভি এবং উত্তর কন্নড় জেলায় বহু বেআইনি অস্ত্র বিক্রি হয়েছে। সুতারের বাড়িতেই বেআইনি অস্ত্র কারখানা রয়েছে। সেখানে নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি হত।
প্রথমে ২০২৪ সালে একটি খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত দেশি পিস্তলের সূত্র ধরে সুতারের অস্ত্র কারখানার হদিস পায় পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, সেই অস্ত্র রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং দেশের অন্য রাজ্যেও যে পাচার হত, সেটা জানতে পারে পুলিশ। প্রথমে সুতারকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জেরা করে আরও ১৩ জনের হদিস পান তদন্তকারীরা। ঘটনাচক্রে, সেই ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন বই বিক্রেতা বিশ্বনাথ। ঘটনাটির পর তদন্তে নামে কর্ণাটক পুলিশ। বই এর দোকানে এসে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় দোকানের পেছনে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো রয়েছে পয়েন্ট ওয়ান ক্যালিবার থেকে শুরু করে অটোমেটিক পিস্তল। পুলিশ জানতে পেরেছে, সুতারের কারখানা থেকে অস্ত্র চলে আসত বিশ্বনাথের কাছে। বইয়ের দোকান, ফলে কারও সন্দেহ হবে না। এই সুযোগ নিয়েই বিশ্বনাথের হাত ধরে বেআইনি অস্ত্র পাচার চলত। তল্লাশি অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র বানানোর প্রচুর সরঞ্জাম, এ ছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।